ফুটবলের প্রতি সামান্য দরদও নেই বাফুফের, দাবি সাবেক কোচ জর্জেভিচের

ফুটবলের প্রতি সামান্য দরদও নেই বাফুফের, দাবি সাবেক কোচ জর্জেভিচের। জর্জেভিচ- এই নামটি বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোতভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এক যুগ আগে সার্বিয়ান এই কবির আমাকে আলাদা করে দিয়ে লাল-সবুজর সামনেরা।

ফুটবলে ব্যর্থতার দুষ্ট চক্রের মধ্যে, বাংলাদেশ ২০১০ সালে আফগানিস্তানকে হারিয়ে দক্ষিণ এশিয়ান গেমসে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়। দেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই গৌরবময় অধ্যায়ের পেছনের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন জর্জিভিচ।

২০১০ সালে এসএ গেমসে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয় বাংলাদেশ। ছবিঃ দ্য ডেইলি স্টার

হঠাৎই বাংলাদেশকে চমকে দেওয়া ‘উপহার’ দিয়েও বাফুফের সাথে বেশি সময় কাটাতে পারেননি জোরান জর্জেভিচ। বেতন নিয়ে দুই পক্ষের বনিবনা না হওয়ায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশ ছাড়েন তিনি। এমনকি দুই পক্ষের সম্পর্ক এতটাই অবনতি হয় যে, যাওয়ার দিন বাফুফে গাড়িতেও উঠেননি সার্বিয়ান এই কোচ!

বাংলাদেশ থেকে চলে যাওয়ার ১২ বছর পর বাফুফের সাথে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন জর্জেভিচ।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের ফুটবল নিয়ে অনেক কথাই বলেছেন সার্বিয়ান। ৬৯ বছর বয়সী এই কোচের দাবি, তিনি থাকলে বাংলাদেশ এতদিন বিশ্বকাপ খেলতে পারত। সেই সময়ে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৫০ তম স্থানে থাকা বাংলাদেশের জন্য বিশ্বকাপে খেলা স্বপ্ন সত্যি হয়েছে কিনা জানতে চাইলে জর্জেভিচ বলেন:

“ফুটবলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়। অন্য লোকেদের প্রতি আপনার সাহায্যের মাধ্যমে আপনাকে আরও বৈষম্যমূলক হতে হবে। খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্ভাবনা ছিল। আমরা এশিয়ান কাপ এবং বিশ্বকাপের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে পারতাম। আমি মনে করি আমিই ছিলাম। কাজের জন্য সঠিক ব্যক্তি।”

“দেখুন, বিবিসি শুধু আমাকে, কোচ জোরান এবং হিজ আফ্রিকান টাইগারদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেনি। তারা ২০১২-১৩ সালের অবহেলিত দক্ষিণ সুদানকে নিয়ে এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছে। যদি ফেডারেশন এখনও আমাকে ডাকে, আমি কিছু করতে পারি।”

আরো পড়ুনঃ

প্যারাগুয়ে ও ব্রাজিল ফুটবল খেলা ২০২২ এর খবর

এ সময় অভিজ্ঞ সার্বিয়ান কোচ দাবি করেন, “আমি শুধু বাংলাদেশের অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন নই, ক্লাব ও জাতীয় দলসহ ১৪টি দেশে কোচিং করেছি। সব জায়গায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অভিজ্ঞতা আছে।

এসএ গেমসজয়ী কোচ জোরান জর্জেভিচ। ছবিঃ ইন্টারনেট

আগুনই বাংলাদেশকে চমকে দেওয়া ‘উপাহার’ দিয়ে বাফুফের বেশি সময় কাটাতে পারেনি জোরান জজেভিচ। কর্মসূচী নিয়ে দুই পক্ষের বনিবনা না পার্টির সপ্তাহের এক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটি আসবে। অনেক দুই পক্ষের সম্পর্ক এতটাই অবনতি হয় যে, দিন বাফুফে গাড়িতেও বলোনি সার্বিয়ান এই কুসুম!

বাংলাদেশ থেকে শুরু করার ১২ বছর পর বাফুফের সাথে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মনে করে সার্বিয়ান এই কৌতুক জানান বাফুফের কোন দরদ নিয়ে ভাবনা নেই।

“আমি তাদের অসম্মান করতে চাই। প্রকৃতপক্ষে আমার কাছে মনে হয়েছিল, তারা নিরাপদে নিয়ে যাবে না। ফুটবলের প্রতি দরদ পর্যন্ত নেই। এ জন্য জোট রাগ হয়েছিল আমার।