লুকাকুর গোলে ইতিহাস গড়ার ‘এক পা দূরে’ চেলসি

[ad_1]

রাশিয়ান ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ এসে চেলসির ভাগ্যে বদলে দিয়েছেন। এক সময়ে ইংলিশ ফুটবলের মাঝারি মানের দলটি পেট্রোল-ডলারের ঝনঝনানিতে বর্তমানে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে।

২০০৩ সালে চেলসির মালিকানা কিনে নেন রোমান আব্রামোভিচ। তখনো ব্লুজদের ইতিহাস অতটা সমৃদ্ধ ছিলো না। ক্লাব ইতিহাসের নিজেদের প্রথম ৯৮ বছরে মাত্র ৬টি শিরোপা জিতেছিলো ক্লাবটি। অথচ, রোমান আব্রামোভিচ যুগ শুরু হওয়ার পর ১৮ বছরে চেলসি শিরোপা জিতেছে আরও ২১টি।

ছবিঃ টুইটার

রাশিয়ান ধনকুবের অধীনে শুধু ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ফুটবলেই আধিপত্য দেখায়নি চেলসি; ইউরোপেও দু হাত ভরে সাফল্যে পেয়েছে। সবমিলিয়ে দুবার উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুটও পড়েছে।

তবে, ক্লাব ফুটবলের সম্ভব্য প্রায় সব শিরোপা জেতা হলেও দলটির ক্যাবিনেটে এখনও ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা শোভা পায়নি। এখনও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ জিততে পারেনি দলটি।২০১২ সালে একবার ফাইনালে উঠেছিলো বটে, তবে সেবার ব্রাজিলিয়ান ঐতিহ্যবাহী ক্লাব করিন্থিয়াসের কাছে হেরে শূন্য হাতে ফিরতে হয় ব্লুজদের।

দশ বছর পর আবারও না পাওয়ার আক্ষেপ মেটানোর সুযোগ চেলসির সামনে। গত বছর ইউরোপ সেরার হওয়ার সুবাদে আবারও ক্লাব বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে দলটি। আর সেখানেই শেষ চারের লড়াইয়ে সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালকে হারিয়েছে টমাস টুখেলের দল।

আজ (বুধবার) রাতে আবুধাবিতে ক্লাব বিশ্বকাপে সেমি ফাইনালের ম্যাচটি ১-০ গোলে জিতে ফাইনালে উঠেছে চেলসি। আক্রমণ প্রতি আক্রমণের ম্যাচে প্রথমার্ধেই ব্লুজদের হয়ে রোমেলু লুকাকু পার্থক্য গড়ে দিয়েছেন।

মোহাম্মেদ বিন জায়েদ স্টেডিয়ামে ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে আধিপত্য ছিলো চেলসির। বল দখলের লড়াইয়ে ৫৪ শতাংশ বল নিজেদের পায়ে রাখে দলটি। গোলমুখে শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও এগিয়ে ছিলো ব্লুজরা। গোটা ম্যাচে ১৫টি শট নিয়ে ৫টিই লক্ষ্যে রাখে দলটি। বিপরীতে আল হিলাল ১২ শটের ৩টি লক্ষ্যে রাখে।

করোনা থেকে এখনও পুরোপুরি সেরে না উঠা আজও চেলসির ডাগ-আউটে ছিলেন না টমাস টুখেল। কোচ ছাড়াই ১১তম মিনিটে আক্রমণে যায় দলটি। সেসার আজপিলিকুয়েতার পাসে ডি-বক্সের ভেতর খুব কাছ থেকে উড়িয়ে মেরে হতাশ করেন হাকিম জিয়াশ। ৫ মিনিট পর আবারও আজপিলিকুয়েতার বল খুব কাছে পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি লুকাকু। ২৬তম মিনিটে বেলজিয়াম তারকার শট ঠেকিয়ে দেয় গোলরক্ষক।

ছবিঃ টুইটার

৬ মিনিট পর গোলের দেখা পেয়ে যায় চেলসি। ৩২তম মিনিটে কাই হ্যাভার্টজের ক্রস ঠিকঠাক আল হিলালের ডিফেন্ডার ক্লিয়ার করতে না পারলে বল পায় লুকাকু। ঠান্ডা মাথায় ফিনিশংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন বেলজিয়াম স্ট্রাইকার। প্রথমার্ধে আর কেউই গোলের দেখা পায়নি।

বিরতির পর নিজেদের মেলে ধরার চেষ্টা করে আল হিলাল। কিন্তু, চেলসির অভিজ্ঞ রক্ষণদুর্গ ফাকি দিতে পারেনি দলটি। ৬৩তম মিনিটে মুসা মারেগার ওয়ান টু ওয়ান শট ঠেকিয়ে চেলসিকে বাঁচান গোলরক্ষক কেপা।

৬৭তম মিনিটে মোহামেদ কানোর ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া বুলেট গতির শটও ঠেকিয়ে দেন ব্লুজ তারকা। ম্যাচের বাকি সময় আর কেউই পরিস্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয়ে ফাইনাল নিশ্চিত হয়ে যায় চেলসির।

ছবিঃ টুইটার

নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার ক্লাব বিশ্বকাপের শিরোপা জিততে আর একটি জয় চাই চেলসির। একই মাঠে আগামী শনিবারের ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ গতবারের কোপা লিবের্তাদোরেস চ্যাম্পিয়ন পালমেইরাস। আগের দিন প্রথম সেমি-ফাইনালে মিশরের দল আল আহলিকে ২-০ গোলে হারায় ব্রাজিলিয়ান ক্লাবটি।

[ad_2]
Source link