শিশুর আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

শিশুর আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা: আমাশয় একটি অতিসাধারণ ব্যাধি, যা মানব অন্ধ্রে সংক্রমণের মাধ্যমে ঘটে থাকে। সাধারণত, অ্যান্টামিবা হিস্টোলাইটিকা কিংবা সিগেলা গণভুক্ত ব্যাকটেরিয়া মানবদেহের পরিপাকতন্ত্রে সংক্রমণ করে। অন্ত্রের সংশ্লিষ্ট অংশে প্রদাহের সৃষ্টি হয়, পেট ব্যথা করে এবং শ্লেষ্মা, রক্তসহ পাতলা পায়খানা হতে থাকে।

আমাশয় হলে পেট কামড়ানোসহ মলের সঙ্গে পিচ্ছিল আম অথবা শ্লেষ্মাযুক্ত রক্ত যায়। আমাশয় দুই ধরনের হয়ে থাকে।

যথা; অ্যামিবিক আমাশয় এবং বেসিলারি আমাশয়। এদের সংক্রমণের কারণ ভিন্ন, রোগের লক্ষণ এবং চিকিৎসাও ভিন্ন ৷

শিশুর আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা
শিশুর আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

শিশুর আমাশয় রোগের ঘরোয়া চিকিৎসা

আমাশয়টা আসলে কী? (What is Dysentery ?): আমাশয় হল অন্ধ্রের ইনফেকশন বা সংক্রমণ। মূলত জীবাণুঘটিত রোগ। আমাশয়ের কারণে প্রাথমিক ভাবে খুব কষ্ট হলেও এতে প্রাণহানীর কোনও আশঙ্কা থাকে না! কিন্তু আমাশয় দীর্ঘদিন নিরাময় না-হলে প্রাণহানীর আশঙ্কাও দেখা দেয়।

লক্ষণ : হঠাৎ করে ঘন ঘন পাতলা পায়খানা শুরু হয় এবং চিকিৎসা নিতে দেরি হলে দিনে ১০ বারের বেশি মলত্যাগ করতে হয়। আক্রান্ত রোগীর পেটে ব্যথা করতে থাকে। রোগীর শরীরে খিঁচুনি হতে পারে। রোগীর গায়ের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। জার হয় ১০২-১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠে যেতে পারে। অনেকবার মলত্যাগের কারণে শরীরে পানিস্বল্পতা ও ইলেকট্রোলাইট ঘাটতি দেখা দেয়। শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে।

তবে আমাশয়ের প্রকারভেদও আছে। মূলত দু’রকমের আমাশয়
হয়। (Types of Dysentery):
তীব্র আমাশয় (Acute Dysentery): ১০ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হয় এই অসুখ। পেটব্যথা থেকে শুরু করে জ্বর পর্যন্ত হতে পারে। বাড়াবাড়ি হলে মলে রক্ত এবং মিউকাস দেখা যায়। চিকিৎসা না- করানো হলে পুঁজও বেরোতে পারে।

দীর্ঘস্থায়ী আমাশয় (Chronic Dysentery):
আমাশয় দীর্ঘদিন চিকিৎসা না করিয়ে ফেলে রাখলে এই সমস্যা হয়। শিশুদের তো বটেই বড়দেরও এই সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমাশয় বহু মাসেও সারে না। আক্রান্তের শারীরিক অবস্থার দীর্ঘস্থায়ী অবণতি হয়।

আমাশয় ছড়ানোর পিছনে রয়েছে বেশ কয়েকটা কারণ (Cause of Dysentery):

  • সংক্রামিত খাবার।
  • সংক্রামিত জল বা অন্যান্য পানীয়।
  • নোংরায় হাত দিয়ে, সেই হাত ভালো করে না-ধোওয়া। সাঁতার কাটার সময় পুলের বা পুকুরের সংক্রামিত জল পেটে যাওয়া । সংক্রামিত ব্যক্তির স্পর্শ।
  • চিকিৎসকের কথায়, আমাশয় সংক্রমণের পিছনে জলের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি। তাই ওই বিষয়টায় নজর দিতে হবে সর্বাধিক। শুধুমাত্র শিশুদের নয়, বড়দের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম মেনে চলতে হবে। তা হলেই এড়ানো যাবে আমাশয়ের সমস্যা ।

জার্ম যেকোন ভাবেই শরীরে ঢুকতে পারে, তবে চেষ্টা করবেন, ছোট বাচ্চাদের কোলে নেয়ার আগে এবং খাওয়ানোর আগে ভালো ভাবে হাত ধুয়ে নিতে, সাবান দিয়ে হাতে ভালো ভাবে ফ্যানা তৈরি করে হাত ধৌত করবেন, না হলে পরিষ্কার হবে না। সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে কোলে নেয়ার আগে অবশ্যই হেক্সাসল টাইপ এন্টি • ব্যাকটেরিয়াল লিকুইড/ লোশন দিয়ে হাত ধুয়ে নিবেন।

শিশুর আমাশয় হলে খাবার
শিশুর আমাশয় হলে খাবার

শিশুর আমাশয় হলে খাবার

শিশুর আমাশা হলে যে খাবার খাওয়ানো প্রয়োজন তা হল কিছু খাবার আছে বা কিছু বিষয় আছে যা ঘরোয়া ভাবে নিজেই করতে পারবেন।

  • বিশুদ্ধ পানি পান করাতে হবে।
  • দাঁত ব্রাশ করা পর বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার করতে হবে।
  • মলত্যাগের পরে হাত সাবান দিয়ে ভালো করে ধুতে হবে।
  • খাবার গ্রহণের আগে সাবান দিয়ে হাত ভালো করে ধুতে হবে।
  • বাইরের খাবার কম খাওয়াই ভালো।
  • ফল বা সবজি খাওয়ার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
  • ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখতে হবে।
  • অসুস্থ শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন করতে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে।

কখন ডক্টর এর কাছে নিতে হবে

ঘরোয়া পদ্ধতিতে আমাশয়ের নিরাময়ের অনেকগুলো বাস্তাই রয়েছে। (Home Remedies for Dysentery for Babies) fo মনে রাখবেন, এর অনেকগুলোই কোনও কোনও শিশুর জন্য সমস্যারও হয়ে যেতে পারে। তাই আগে চিকিৎসকের বা শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া দরকার। আর যদি সমস্যা বাড়াবাড়ির আকার নেয়, তখন ঘরোয়া পদ্ধতি ছেড়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ওষুধের দ্বারস্থ হতেই হবে।

পাতলা পায়খানা থেকে বমি বেশী ক্ষতিকর, কারণ এতে এনার্জি অনেক লস হয়। আর সাথে যদি জ্বর থাকে তাহলে এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করে ডাক্তারের কাছে যাবেন। খেয়াল রাখবেন, কতক্ষণ পরপর বমি/ পায়খানা করছে, হিসাব রাখবেন। পায়খানার কালার খেয়াল রাখবেন, যদি পায়খানা সাদা হয়, বা একদমই মল না থাকে, শুধু পানি থাকে
তো তখনই হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

চিকিৎসা :
দুই ধরনের আমাশয়তে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ ও বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার যেমন ভালো ঠাণ্ডা পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি খেতে হবে। অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

চিকিৎসা :
দুই ধরনের আমাশয়তে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ ও বিশ্রাম নিতে হবে। প্রচুর পরিমাণ তরল খাবার যেমন ভালো ঠাণ্ডা পানি, ডাবের পানি, ফলের রস ইত্যাদি খেতে হবে। অতিরিক্ত পাতলা পায়খানা হলে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ খেতে হবে।

বাচ্চাদের ডায়রিয়া হলে যা খাওয়াবেন
পায়খানা করতে থাকলে ৬মাসের কম বয়সী বাচ্চাকে বার বার দুধ খাওয়াতে থাকবেন, এতে পানির কমতি পূরণ হবে। ৬মাসের বেশি বয়সী বাচ্চাকে আতপ চাল দিয়ে খিচুড়ি বা জাউ করে দিতে পারেন, সাথে কাঁচা কলার ভর্তা বা অল্প তেল মসলা দিয়ে কাঁচা কলার তরকারি করে দিতে পারেন, খিচুড়ির সাথেও কাঁচা কলা দিতে পারেন।

সাথে পাকা কলা আর ডাবের পানি দিতে পারেন, আর অন্য কোন ফল দিবেন না। শাক আর টক জাতীয় কিছুই দিবেন না। ডিম, সবজি, মাছ, বিশেষ করে সিং মাছ, মুরগি সবই দিতে পারবেন, তবে অল্প মসলা আর তেল দিয়ে। গরুর দুধ দিবেন না । অন্ততপক্ষে এক সপ্তাহ এই রুটিন ফলো করবেন।

স্যালাইন খাওয়ানো যাবে কি?
## প্রথমবার বমি/ পাতলা পায়খানা করলে প্রতিবার করার পর বয়স অনুযায়ী বাচ্চাকে একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ স্যালাইন খাওয়াতে হবে, ইচ্ছামত স্যালাইন খাওয়ানো যাবে না। কারণ আমরা অনেকেই জানি না যে, বেশি স্যালাইন শরীরের জন্য ক্ষতিকর, এতে শরীরের লবণের পরিমান বেড়ে যায় ।

আরো জানুন:

প্রতিবার পায়খানা করার পর বাচ্চাদের স্যালাইন খাওয়ানোর নিয়ম…
* ১বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে তার ওজন অনুযায়ী ৪চা চামচ স্যালাইন খাওয়াতে হবে।
** ২বছরের কম বয়সী বাচ্চাকে তার ওজন অনুযায়ী ৬-৮চা চামচ স্যালাইন খাওয়াতে হবে৷
** ২বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাকে তার ওজন অনুযায়ী ১২-১৬ চা চামচ স্যালাইন খাওয়াতে হবে।

Leave a Comment

You cannot copy this post.