পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় একটি নবনির্মিত গার্ডার ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক উদ্বোধনের মাত্র দুই মাসের মাথায় ধসে পড়েছে। প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজটি চার বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণাধীন ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতের হালকা বৃষ্টিতেই সেতুর প্রায় ২০০ মিটার সংযোগ সড়ক ধসে যায়, যদিও কোনো টানা বৃষ্টি হয়নি।
এই ঘটনায় প্রতিদিন নানা ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে এবং স্থানীয় মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বোদা উপজেলার ঝলই শালশিড়ি ইউনিয়নের ধরধরা এলাকায় টাঙ্গন নদের ওপর নির্মিত এই ব্রিজের সরেজমিন পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা গেছে। এলাকাবাসী দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত সংযোগ সড়ক সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজের শুরু থেকেই প্রকল্পটি নিয়ে প্রশ্ন ছিল। ব্রিজ সংলগ্ন টাঙ্গন নদ থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন করে সংযোগ সড়ক ভরাটের অভিযোগও ওঠে। এ বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছিল।
স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রিয়নাথসহ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নদ থেকে বালু তুলে সড়ক ভরাটের সময় তাদের বলা হয়েছিল যে এতে রাস্তা আরও মজবুত ও টেকসই হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক ও এলজিইডির মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এমন আশ্বাস দিয়েছিলেন। তাদের দাবি, নদ থেকে তোলা নরম বালুর ওপর পর্যাপ্তভাবে মাটি ও অন্যান্য উপকরণ না দিয়ে দ্রুত হেরিংবোন সড়ক (এইচবিবি) নির্মাণ করার কারণেই এখন তা ধসে পড়ছে।
এর আগে সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের অভিযোগের মুখে তা আর উদ্বোধন করা হয়নি। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ সেসময় এলাকাবাসীর অভিযোগ শুনে কাজের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এলজিইডির জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশও দেন। ঐ ঘটনার ভিডিও ও খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল।
স্থানীয় বাসিন্দা মজিবর রহমান বলেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে নির্মাণকাজ চলার পর মাত্র দুই মাস আগে সড়কটি মানুষের চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। এত অল্প সময়ের মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে সড়ক ধসে পড়া নির্মাণকাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তার মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় এলজিইডির তদারকি যথাযথ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।



মতামত (0)