আগামী বর্ষায় ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত

আগামী বর্ষায় ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত
আগামী বর্ষায় ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধের সিদ্ধান্ত
গতকাল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে আগামী বছর থেকে বর্ষা মৌসুমে ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমে সব কাজ শেষ করতে হবে এবং নির্মাণকাজের আগে পুলিশের অনুমতি নিতে হবে।

আগামী বছর থেকে বর্ষা মৌসুমে রাজধানীতে কোনো রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করা যাবে না। রাস্তা সংস্কারের সব কাজ শুষ্ক মৌসুমের মধ্যেই শেষ করতে হবে। গতকাল মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকার এই সিদ্ধান্ত কার্যকরের জন্য অর্থবছর পরিবর্তন করেছে।

ঢাকা মহানগরীতে চলমান ও গৃহীত মেগা প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে সৃষ্ট যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ঢাকায় রাস্তা সংস্কারের আগে অবশ্যই পুলিশ প্রশাসনের অনুমতি নিতে হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৈঠকে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থা পুলিশের কাছে অনুমতি চাওয়ার আগেই ঢাকায় রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ অন্যান্য কাজ শুরু করে। এর ফলে রাস্তায় দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। নির্মাণকাজ শুরুর আগে পুলিশের অনুমতি নেওয়ার বিষয়ে সভায় জোর দেওয়া হয়।

উন্নয়ন সংস্থা বা তাদের ঠিকাদারকে নিরাপত্তা ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা নিতে হবে। কাজ শুরুর আগে গণমাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রচার চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। ট্রাফিক ব্যবস্থা নির্বিঘ্ন রাখতে সাপ্তাহিক কর্মদিবসে রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কাজ করতে হবে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো শুক্র ও শনিবার ২৪ ঘণ্টা নির্মাণকাজ করতে পারবে। নির্মাণ সংস্থাকে প্রতি মাসে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাছে কাজের অগ্রগতি জানাতে হবে।

সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে প্রতি ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এই সভায় তিনি সভাপতিত্ব করবেন। ঢাকা সিটি করপোরেশন ও আশপাশের সব উন্নয়নমূলক কাজ যাতে সমন্বয় করে করা হয়, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এক সংস্থা কাজ শেষ করার পরপরই আরেক সংস্থা একই স্থানে যাতে আবার খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সে বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া, ভোগান্তি কমানো এবং জনস্বার্থে সময় ও অর্থের অপচয় রোধ করাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করে।

একই সময়ে বিভিন্ন পরিষেবা স্থানান্তর বা অন্যান্য নির্মাণকাজ যাতে একসঙ্গে শেষ করা যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সভায় অর্থবছর পরিবর্তনের বিষয়টি আলোচনায় আসে। বর্তমানে অর্থবছর ১ জুলাই শুরু হয়ে পরের বছরের ৩০ জুন শেষ হয়।

সরকার এটি পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে যাতে কাজ না হয়। জনভোগান্তি এড়াতে অর্থবছর পরিবর্তন করা হয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে সব কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৈঠকে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা হয়। ঢাকায় সব অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্যাটারিচালিত রিকশার চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করতে গেলে তারা সমন্বিত বাধার মুখে পড়েন।

এরপর সিদ্ধান্ত হয়, দিনের বেলায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অবৈধ চার্জিং পয়েন্ট বিচ্ছিন্ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার রাতারাতি কাউকে বেকার দেখতে চায় না। তবে সড়কে শৃঙ্খলা আনা জরুরি।

এজন্য কেউ মহানগরের বাইরে যাবে, কেউ অন্য সড়কে ব্যবহার করবে—এমন কিছু কার্যক্রম হাতে নেওয়া হচ্ছে। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, নগরীতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে এবং যানজট নিরসনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে যান চলাচলে দৃশ্যমান শৃঙ্খলা আসছে এবং নগরবাসী এর সুফল পাচ্ছেন। ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউটিলিটি শিফটিংয়ের কাজ পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...