আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ

আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে ভারতের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের অপেক্ষায় বাংলাদেশ
গতকাল শেষ হওয়া বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিংয়ে আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তা পরীক্ষা করে দেখবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রেলভবনে বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) শেষে আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বন্ধ থাকা মৈত্রী, বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস কবে চালু হবে, তা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। ভারত আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে বাংলাদেশ তা পরীক্ষা করে দেখবে বলে জানানো হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জিয়াউল হক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এসব ট্রেন বন্ধ করেনি; ভারতীয় কর্তৃপক্ষই বন্ধ করেছে।

জিয়াউল হক আরও বলেন, চালুর বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাওয়ার পরই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। তিন দিনব্যাপী ৩৮তম বাংলাদেশ-ভারত আন্তসরকার রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম) গতকাল শেষ হয়েছে।

ভারতীয় পক্ষ বৈঠকে মৈত্রী এক্সপ্রেসকে পদ্মা সেতু হয়ে চালানোর বিষয়ে আলোচনা করেছে। বাংলাদেশ জানিয়েছে, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক চ্যানেলে প্রস্তাব আকারে এলে তা পরীক্ষা করে দেখা হবে। পদ্মা সেতু দিয়ে এর আগে কোনো আন্তদেশীয় ট্রেন চলেনি।

নতুন রুটে ট্রেন চালাতে কারিগরি ও পরিচালনাগত সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। পদ্মা সেতু হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস চললে যাত্রাপথের দূরত্ব কমবে এবং যাত্রীদের দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হতে পারে। দূরত্ব কমার কারণে ভাড়াও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

বন্ধন ও মিতালী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়টি এবারের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে ছিল না। গত বছরের বৈঠকে অবশ্য এসব ট্রেন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিলে তা সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।

আখাউড়া-আগরতলা রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। আগের বৈঠকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ওই রুটে ট্রেন চালুর সম্ভাব্য যাত্রীচাহিদার তথ্য ও সহায়ক নথি দিতে বলা হয়েছিল। এবারের বৈঠক পর্যন্ত ভারতীয় পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি বলে জিয়াউল হক জানান।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে ভারতীয় পক্ষকে বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনটি আন্তদেশীয় ট্রেন চালুর ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো আছে। এবারের বৈঠকে দুই পক্ষকেই ইতিবাচক মনে হয়েছে।

গত বছর ভারতীয় পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হলেও এবার সে বিষয়ে কোনো কথা ওঠেনি। পণ্যবাহী ট্রেন পরিচালনার ক্ষেত্রে দুই দেশের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কীভাবে তা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রেলওয়ে পর্যায়ে যেসব বিষয় সমাধান করা সম্ভব, সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যেসব বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় উপস্থাপন করা হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...