বগুড়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। খেলা দেখতে মাঠে, গাছে ও টাওয়ারে হাজার হাজার দর্শক ভিড় করেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। আজ বুধবার বিকেলে বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম–সংলগ্ন মাঠে উত্তেজনাপূর্ণ এই খেলায় তারা বগুড়া সদর উপজেলা একাদশকে পরাজিত করে। টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েই সিটি করপোরেশন একাদশ এই শিরোপা জয় করলো।
ফাইনাল খেলা নির্ধারিত সময়ে গোলশূন্য ড্র হয়। পরে টাইব্রেকারেও দুই দল ৪-৪ গোলে সমতা বজায় রাখে। ফলাফল নির্ধারণে রেফারি উভয় দলকে একটি করে অতিরিক্ত শর্ট নেওয়ার সুযোগ দেন।
অতিরিক্ত শর্টে বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ গোল করতে সক্ষম হলেও বগুড়া সদর উপজেলা একাদশ গোল দিতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে টাইব্রেকারে ৫-৪ গোলের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশ। এই জয়ের মাধ্যমে তারা টুর্নামেন্টে অভিষেক বছরেই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
প্রতিপক্ষের ফলাফল নির্ধারণী শট ঠেকিয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশন একাদশের গোলরক্ষক আবদুল হাকিম ‘ম্যান অব দ্য ফাইনাল’ পুরস্কার জিতেছেন। চ্যাম্পিয়ন দলকে ট্রফি ছাড়াও নগদ তিন লাখ টাকা পুরস্কার প্রদান করা হয়। রানার্সআপ দল হিসেবে বগুড়া সদর উপজেলা একাদশ নগদ দেড় লাখ টাকা ও ট্রফি লাভ করে।
ফাইনাল খেলা দেখতে মাঠজুড়ে ছিল হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী দর্শকের উপস্থিতি। গ্যালারি ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। অনেক দর্শক বাউন্ডারির গ্রিলের ওপর, বাউন্ডারির বাইরে গাছের ডালে এবং ফ্লাড লাইটের টাওয়ারেও অবস্থান নেন।
ফ্লাড লাইটের টাওয়ারে ঝুঁকি নিয়ে শিশু-কিশোরদের উঠে পড়তে দেখা যায়। সামান্য অসাবধানতায় সেখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। গাছের ওপর উঠেও অনেক ফুটবলপ্রেমী দর্শক খেলা উপভোগ করেন।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের হাতে ট্রফি তুলে দেন। বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন বগুড়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম ওরফে বাদশা, বগুড়া-জয়পুরহাটের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন। বগুড়া সিটি করপোরেশন প্রশাসক এম আর ইসলাম স্বাধীন, পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ, ক্রীড়া সংগঠক সৈয়দ আমিনুল হক দেওয়ান এবং বগুড়া জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব খাজা আবু হায়াতও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
বগুড়া জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থা যৌথভাবে এই টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। বগুড়া সিটি করপোরেশন এবং জেলার ১৩টি উপজেলাসহ মোট ১২টি দল এতে অংশগ্রহণ করে।
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক অনুষ্ঠানে বলেন, বগুড়ায় খুব শিগগির রহমান স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা হবে। এই ভিলেজে ফুটবল, ক্রিকেট, আর্চারি, ভলিবলের ইনডোরসহ সব ধরনের খেলার সুযোগ–সুবিধা থাকবে। এখানে খেলা আয়োজন, অনুশীলন এবং খেলোয়াড় তৈরির ব্যবস্থা থাকবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, রহমান স্পোর্টস ভিলেজে একটি সুইমিংপুলও থাকবে। তিনি শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম–সংলগ্ন ফুটবল মাঠকে ফুটবল স্টেডিয়ামে রূপ দিতে দ্রুত গ্যালারি নির্মাণের কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে বগুড়াসহ প্রতিটি জেলা ও বিভাগীয় শহরে খেলাধুলাকে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন। তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশৃঙ্খল জাতি হিসেবে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেন। ডিভাইসের আসক্তি থেকে সন্তানদের দূরে রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গড়তেও তিনি সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
মো. আমিনুল হক বলেন, সবাই মিলে একটি মাদকমুক্ত, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। তিনি এই লক্ষ্য অর্জনে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
মতামত (0)