ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের পেহেলগামে সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক ও সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একটি বিশেষ জরুরি প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই নির্দেশের অংশ হিসেবে দেশব্যাপী একটি বিশাল মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে দেশের ২৪৪টি জেলার সরকারি দপ্তর, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগণ সরাসরি অংশগ্রহণ করবে। এই ব্যাপকভিত্তিক মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সার্বিক প্রস্তুতি নিশ্চিত করা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই মহড়াটি মূলত যুদ্ধ পরিস্থিতির সম্ভাব্যতা মাথায় রেখে পরিচালিত হবে। এর প্রধান উদ্দেশ্য হলো দেশের সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো ধরনের দুর্যোগ বা প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত রাখা। এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগটি দেশের সামগ্রিক বেসামরিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মহড়ার মূল দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে সমস্ত সরকারি দফতরে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন ব্যবস্থার সক্রিয়করণ ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা। পাশাপাশি, ব্ল্যাকআউটের সময় নাগরিকদের জন্য কী কী করণীয়, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। এছাড়াও, স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক মক ড্রিল বা মহড়া আয়োজন করা হবে, যা তাদের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দেবে।
এই মহড়ায় গুজব প্রতিরোধে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর নির্দেশনা দেওয়া হবে, যাতে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়। একইসাথে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল ও সচেতন আচরণের বিষয়ে নাগরিকদের বিস্তারিত পরামর্শ প্রদান করা হবে। নাগরিকদের জন্য ঘরে অবস্থান, দরজা-জানালা সঠিকভাবে বন্ধ রাখা এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস বন্ধ রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েও বাস্তবসম্মত মহড়া করানো হবে।


মতামত (0)