বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানালেন ওমর সানী

বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানালেন ওমর সানী
বিচ্ছেদের গুঞ্জনে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানালেন ওমর সানী
জনপ্রিয় তারকা দম্পতি মৌসুমী ও ওমর সানী তাঁদের দীর্ঘ ৩১ বছরের সম্পর্ক, বিচ্ছেদের গুঞ্জন এবং একে অপরের প্রতি ভালোবাসার কথা জানিয়েছেন। মৌসুমী গুঞ্জন নিয়ে বলেন, "ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে।

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি মৌসুমী ও ওমর সানীর প্রেম ও ভালোবাসার গল্প তিন দশক ধরে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ তাঁরা চুপিসারে বিয়ে করেছিলেন। বিয়ের প্রায় দেড় বছর পর ২ আগস্ট তাঁদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। এরপর দীর্ঘ ৩১ বছর ধরে তাঁরা সংসার, সন্তান, অভিমান এবং বিচ্ছেদের গুঞ্জনসহ নানা বিষয় পেরিয়েও একসঙ্গে আছেন।

সম্প্রতি ওমর সানী মৌসুমীর প্রতি তাঁর ভালোবাসার কারণ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মৌসুমীর যত্নশীলতা এবং তাঁর জিদ তাঁকে ভীষণ টানে। মৌসুমী অনেক কথা জমাট করে রাখতে পারেন, যা ওমর সানী পারেন না। ওমর সানীর ধৈর্য কম হলেও মৌসুমীর ধৈর্য বেশি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ওমর সানীর কাছে স্ত্রী হিসেবে মৌসুমীর সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো সন্তানদের মা। তিনি বলেন, একটা সময় বাবা-মা ছিলেন, এখন তাঁদের দুই সন্তান ফারদীন ও ফাইজা। সন্তানদের নিয়ে মৌসুমীর যত চিন্তা, এরপর বাকি থাকলে তিনি। ওমর সানী তাঁর সংসারের একটি মজার অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন, যেখানে তিনি খেতে বসলে মৌসুমী মাংস ফারদীন ও ফাইজার জন্য আলাদা করে রাখেন।

দীর্ঘ তিন দশকের দাম্পত্য জীবনে মাঝেমধ্যে তাঁদের বিচ্ছেদের গুঞ্জন ছড়িয়েছে। এসব নিয়ে মৌসুমীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওমর সানী বলেন, মানুষ হিসেবে তাঁদের ভুল হতে পারে। তিনি জানান, যখন এসব নিয়ে অতিমাত্রায় লেখালেখি হয়, তখন মৌসুমী মন্তব্য করেন, ‘ওদের হয়তোবা এসব বলে কিংবা লিখে সংসার চলে। হয়তোবা দুইটা পয়সার কারণে চাল-ডাল কিনে খায়।’

তবে সব আলোচনা-সমালোচনার বাইরে ওমর সানী তাঁর অনুভূতি স্পষ্ট করে বলেন, ‘এই বয়সেও এসে আমি বলব, ফারদীন–ফাইজার আম্মু—তোমাকে ভালোবাসি।’ তিনি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও ত্যাগকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। ওমর সানী বলেন, একজন আরেকজনকে বিশ্বাস করা ও আত্মত্যাগ করা তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে আছে।

মৌসুমীর আরেকটি গুণের কথা উল্লেখ করে ওমর সানী জানান, মৌসুমী মাঝেমধ্যে বোকামির জন্য তাঁকে বকাঝকা দেন। মৌসুমী বলেন, ‘তুমি তো এটা লস করছ, এটা করছ, এটাও করছ—দিনশেষে আমাদের কি কোনো জায়গা নেই?’ এরপর আবার নিজেই জিজ্ঞাসা করেন, ‘কী লাগবে, কী রকম লাগবে, কী করবা, কী করতে চাও।’ সবকিছু মিলিয়ে মৌসুমী খুবই স্বাচ্ছন্দ্যদায়ক বলে তিনি জানান।

সানী ও মৌসুমীর এই সম্পর্কের শুরুটা অবশ্য এতটা সহজ ছিল না। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মহরত অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। এরপর পরিচালক শেখ নজরুল ইসলাম একটি ছবির প্রস্তাব নিয়ে ওমর সানীকে সঙ্গে করে মৌসুমীদের ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসায় যান। সেখানেই তাঁদের প্রথম কথা হয়।

তবে অন্য ছবির ব্যস্ততার কারণে মৌসুমী সেই প্রস্তাবে রাজি হতে পারেননি। মন খারাপ নিয়েই সেদিন ফিরেছিলেন ওমর সানী। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির পর কয়েকজন প্রযোজকের উদ্যোগে ‘দোলা’ ছবিতে প্রথমবার জুটি বাঁধেন তাঁরা।

সিলেটে ছবিটির শুটিং করতে গিয়ে তাঁদের মনোমালিন্যও হয়েছিল। কিন্তু সেই দূরত্বই একসময় ভালো লাগায় পরিণত হয়। মৌসুমীর ব্যক্তিত্ব, তাঁর পরিবারের আন্তরিকতা ও আচরণ ওমর সানীকে মুগ্ধ করেছিল। এরপর ১৯৯৫ সালের ৪ মার্চ দুই পরিবারের কাছের মানুষ এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ দুই চলচ্চিত্র পরিচালকের উপস্থিতিতে চুপিসারে তাঁরা বিয়ে করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...