২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজনের স্থান নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। মাদ্রিদে এক সংবাদ সম্মেলনে রিয়াল কোচ জোসে মরিনিও এই বিতর্কে তার ব্যক্তিগত ও নিরপেক্ষ মতামত জানিয়েছেন।
২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ শেষ হতে এখনো অনেক সময় বাকি, তবে এর মধ্যেই ফাইনাল আয়োজনের স্থান নিয়ে স্পেন ও মরক্কোর মধ্যে জোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হয়েছে। আগামী বিশ্বকাপে মোট ছয়টি দেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে এবং প্যারাগুয়েতে একটি করে ম্যাচ আয়োজনের কথা রয়েছে।
বাকি সব ম্যাচ স্পেন, মরক্কো ও পর্তুগালে অনুষ্ঠিত হবে। মূল তিন স্বাগতিক দেশের মধ্যে স্পেন ও মরক্কো ফাইনাল আয়োজনের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে। এতদিন ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদ, বিশেষ করে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুকে এগিয়ে রাখা হচ্ছিল।
তবে আজ শুক্রবার মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ফৌজি লেকজা মরক্কোতেই বিশ্বকাপ ফাইনাল হবে বলে দাবি করেছেন। এরপর স্পেনে এ নিয়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এ বিষয়ে আজ শুক্রবার মাদ্রিদে রিয়াল কোচ জোসে মরিনিওর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল।
ফাইনাল কোথায় দেখতে চান এমন প্রশ্নের জবাবে পর্তুগিজ এই কোচ বলেন, “ফাইনালটি কোথায় হওয়া উচিত আর আমি কোথায় দেখতে চাই—দুটি দুই বিষয়। আমাকে মাফ করবেন, আমি চাই লিসবনে হোক।” মরিনিও পর্তুগালের নাগরিক হওয়ায় এমনটা চাওয়া স্বাভাবিক, তবে তিনি বাস্তবতার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে ফাইনাল হওয়ার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। মরিনিও এরপর সিরিয়াস ভঙ্গিতে যোগ করেন, “রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হিসেবে নয়, নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে আমার উত্তর হলো—যদি আপনার এমন এক ঐতিহাসিক স্টেডিয়ামে খেলার সুযোগ থাকে যেখানে বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়রা খেলেছেন…তাহলে ফাইনাল মাদ্রিদেই হওয়া উচিত।”
সম্প্রতি রিয়ালের ভেন্যু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে এক বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। মাদ্রিদে ফাইনাল আয়োজনের কথাটি যে রিয়ালের কোচ হিসেবে পক্ষপাতিত্ব করে বলছেন না, তা স্পষ্ট করে মরিনিও বলেন, “আমি বেনফিকার কোচ হলেও একই কথা বলতাম।”
অন্যদিকে মরক্কো যেখানে ২০৩০ বিশ্বকাপের ফাইনাল আয়োজন করতে চায়, সেটি এখনো নির্মাণাধীন। বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে কাসাব্লাংকার উপকণ্ঠে ‘কিং হাসান দ্বিতীয় স্টেডিয়াম’ নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছে মরক্কোর ফুটবল ফেডারেশন। অত্যাধুনিক সুবিধা সংবলিত এই প্রস্তাবিত স্টেডিয়ামটির দর্শক ধারণক্ষমতা হবে ১ লাখ ১৫ হাজার। এটি নির্মিত হলে বিশ্বের বৃহত্তম ফুটবল স্টেডিয়াম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
মতামত (0)