বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার আগে রোবটের সক্ষমতা দেখাল বাংলাদেশ দল

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার আগে রোবটের সক্ষমতা দেখাল বাংলাদেশ দল
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার আগে রোবটের সক্ষমতা দেখাল বাংলাদেশ দল
দক্ষিণ কোরিয়ায় রোবোটিকসের অলিম্পিক ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়ার আগে নিজেদের তৈরি রোবট প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ দল। গতকাল শনিবার এই প্রদর্শনীতে দলের সদস্যরা রোবটগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচিয়ন শহরে শুরু হতে যাওয়া ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে নিজেদের তৈরি রোবটগুলো প্রদর্শন করেছে বাংলাদেশ দল। গতকাল শনিবার ‘দ্য টেক একাডেমি’ কার্যালয়ে এই রোবট প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আগে দলের সদস্যরা রোবটগুলোর সক্ষমতা তুলে ধরেন।

রোবোটিকসের অলিম্পিক–খ্যাত এই বিশ্ব আসর আগামী ৭ থেকে ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশসহ ১৯০টি দেশ এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে। দ্য টেক একাডেমি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

এ বছর ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘ইগনাইটিং ইনোভেশন: ফোকাসিং অন ওয়াইল্ড ফায়ার প্রিভেনশন, মিটিগেশন অ্যান্ড রিকভারি’। অর্থাৎ, দাবানলের আগুন প্রতিরোধ, নিবারণ এবং কমিয়ে আনার জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার। বাংলাদেশ দলের সদস্যরা এই প্রতিপাদ্যের ওপর ভিত্তি করে রোবট তৈরি করেছেন।

দলের সদস্যরা তিন ধরনের শুটার রোবট তৈরি করেছেন। এই রোবটগুলো দূর থেকে আগুনের ভেতর কার্বন ডাই-অক্সাইডযুক্ত বল ছুড়ে দিতে পারে। প্রয়োজনে রোবটগুলো পাইপ বেয়ে ওপরে উঠতে সক্ষম। এর ফলে ভেতরে না ঢুকেই দ্রুত আগুন নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হবে।

‘টিম বাংলাদেশ: রোড টু এফজিসি, ২০২৬ সাউথ কোরিয়া’ শীর্ষক এই রোবট প্রদর্শনীতে বাংলাদেশ দলের প্রধান মেন্টর মোহাম্মদ শামস জাবের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ সাধারণ কোনো রোবোটিকস প্রতিযোগিতা নয়। এটি বিশ্বের ১৯০টি দেশের রোবোটিকস শিক্ষার্থী এবং মেন্টরদের মিলনমেলা।

জাবের আরও উল্লেখ করেন, এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা, নতুন করে শেখা এবং গোটা বিশ্বের প্রায় সব দেশের মানুষের সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের দারুণ এক সুযোগ। এই প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি জানান।

ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জে বাংলাদেশ দলের সদস্যরা হলেন মাহরুজ মোহাম্মদ, মো. মুহতাসাম মুশাররফ, মো. ইশমাম শাহরুজ চৌধুরী, সুহানা মান্নান, নূরাজ হোসেন, সারিম আহমেদ, নুজহাত জাহান এবং সন্দীপন কুণ্ডু। তারা সম্মিলিতভাবে এই রোবটগুলো তৈরি করেছেন।

মেন্টর হিসেবে দলের সঙ্গে রয়েছেন রায়হান আহমেদ, সিফাত সামিয়া ইসলাম, মুহাম্মদ আহসান, ফায়েজ আলম এবং তাহা কাইজার দিসাওয়ালা। মেন্টররা দলের সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।

বাংলাদেশ দল নির্বাচন, প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে দ্য টেক একাডেমি। তারা প্রতিযোগিতার জন্য দলের প্রস্তুতি নিশ্চিত করেছে।

ফার্স্ট গ্লোবাল চ্যালেঞ্জ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাওয়া বাংলাদেশের দলের গোল্ড স্পনসর হিসেবে রয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক পিএলসি এবং শীর্ষস্থানীয় সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উল্কাসেমি। তারা দলের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।

সিলভার স্পনসর হিসেবে সমর্থন দিচ্ছে পরিবেশবান্ধব এনার্জি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান সোলশেয়ার এবং ইস্পাহানি টি লিমিটেড। এই স্পনসরশিপ দলের প্রস্তুতি ও অংশগ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...