বোলিং প্রতিভা খুঁজতে দেশব্যাপী নতুন আয়োজন

বোলিং প্রতিভা খুঁজতে দেশব্যাপী নতুন আয়োজন
বোলিং প্রতিভা খুঁজতে দেশব্যাপী নতুন আয়োজন
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও একটি টেলিকম অপারেটরের যৌথ উদ্যোগে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নতুন বোলার হান্ট, যেখানে নারী ক্রিকেটাররাও অংশ নিতে পারবেন।

দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা বোলিং প্রতিভা খুঁজে বের করে জাতীয় পর্যায়ে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে আবারও একটি দেশব্যাপী ট্যালেন্ট হান্ট শুরু হয়েছে। এটি একটি টেলিকম অপারেটর এবং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) যৌথ আয়োজন। এবারের আয়োজনে নারী ক্রিকেটারদেরও অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে।

আগের বছরের তুলনায় এবারের আয়োজনের পরিধি আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ‘পারবে তুমিও’ এই আদর্শ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা পেসার ও স্পিনার উভয় বোলারদের সুযোগ করে দেওয়া এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।

গতকাল (১৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এই বোলার হান্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এর বাছাইপর্ব শুরু হবে।

দেশের আটটি ভেন্যুতে বাছাইপর্ব অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে দুটি ভেন্যু ঢাকায় থাকবে। সিলেট, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম হবে অন্যান্য ভেন্যু; বরিশালের ট্রায়াল খুলনায় অনুষ্ঠিত হবে। আগ্রহী বোলাররা একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন।

এই আয়োজনে ১৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী নারী ও পুরুষ ক্রিকেটাররা অংশ নিতে পারবেন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিভিন্ন দিনে ট্রায়াল অনুষ্ঠিত হবে এবং সব মিলিয়ে মোট ৯টি ট্রায়াল আয়োজিত হবে।

পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের বাছাইয়ের সময় নির্বাচকেরা মাঠে উপস্থিত থাকবেন। বিচারক হিসেবে পাকিস্তান জাতীয় দলের সাবেক লেগস্পিনার মুশতাক আহমেদ, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় দলের সাবেক পেসার কোরি কলিমোর এবং হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াড বাংলাদেশের প্রধান কোচ মো. সালাহউদ্দিন থাকবেন। এর পাশাপাশি জাতীয় দলের কোচরাও সামগ্রিক বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকবেন।

প্রতিভা খুঁজে বের করার পরই এই পথচলা শেষ হবে না। নির্বাচিত বোলারদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যার সুযোগ থাকবে। আজকের সম্ভাবনাময় বোলারদের আগামী দিনের জাতীয় দল ও জাতীয় দলের পাইপলাইনের জন্য প্রস্তুত করাই এর মূল লক্ষ্য।

দেশের ক্রিকেটে নতুন প্রতিভা খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে এই যৌথ উদ্যোগের রয়েছে সফল ইতিহাস। ২০১৬ সালের ফাস্ট বোলার হান্ট থেকে এবাদত হোসেন উঠে এসেছিলেন। প্রায় ৪০ হাজার তরুণ পেসারের অংশগ্রহণে আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতায় তিনি ঘণ্টায় ১৩৯.৯ কিলোমিটার গতিতে বল করে দ্রুততম বোলার হয়েছিলেন।

পরবর্তীতে এবাদত হোসেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন। ২০১৭ সালের স্পিনার হান্ট থেকে রিশাদ হোসেন উঠে আসেন, যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের গুরুত্বপূর্ণ লেগ স্পিনার হিসেবে জায়গা করে নেন। এই সাফল্যই নতুন করে এমন উদ্যোগ আয়োজনের অন্যতম বড় অনুপ্রেরণা।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...