ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফল
কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘হাইওয়ে’ সংগীত পরিবেশন করে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ সোমবার সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে সৃষ্ট বিতর্ক ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়। কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।

জনপ্রিয় ব্যান্ড দল ‘হাইওয়ে’র সদস্যরা এতে সংগীত পরিবেশন করেন। ব্যান্ডের হাসান ইথারের গানে কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন। অনুষ্ঠান উপভোগ করতে আশপাশের বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরাও এসেছিলেন।

এর আগে দুপুর পৌনে ১২টার দিকে কলেজের মূল ক্যাম্পাস সংলগ্ন নিয়াজ মুহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি কলেজের স্নাতক শ্রেণির ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল।

জেলা কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ নবীনবরণে ‘গানবাজনা ও নাচানাচি’র বিষয়ে আপত্তি জানায়। তারা কনসার্ট স্থগিতের দাবি তুলেছিল। এ নিয়ে গত তিন দিন ধরে নানা আলোচনা ও অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।

কলেজ কর্তৃপক্ষ কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের আপত্তির মুখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের স্থান বদল করে। সে অনুযায়ী মূল ক্যাম্পাস সংলগ্ন মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতে জেলার স্থানীয় শিল্পীরা মঞ্চে উঠে কয়েকটি গান পরিবেশন করেন। এরপর ঢাকা থেকে আসা ব্যান্ড দল হাইওয়ের হাসান ইথার ও তাঁর দলের সদস্যরা মঞ্চে ওঠেন। তাঁরা তিনটি গান পরিবেশন করেন।

বিকেল সাড়ে চারটায় আসরের নামাজের জন্য বিরতি দেওয়া হয়। নামাজের বিরতির পর হাসান ইথার আবার গান পরিবেশন শুরু করেন। অনুষ্ঠানটি বিকেল সাড়ে পাঁচটায় শেষ হয়।

বিকেল সোয়া চারটা থেকে পাঁচটা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের প্রধান ক্যাম্পাস, কলেজপাড়ার সড়ক ও কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে তিলধারণের ঠাঁই ছিল না। কলেজের অর্থনীতি বিভাগের পরিত্যক্ত ভবনের ছাদেও অনেকে অবস্থান নেন।

দীর্ঘ প্রায় চার বছর পর নবীনবরণ অনুষ্ঠান আয়োজন হওয়ায় কলেজের শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তারা বলেন, সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়েছে। এ জন্য শিক্ষার্থীরা স্থানীয় সংসদ সদস্য, কলেজ কর্তৃপক্ষ ও কলেজ শাখা ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান।

কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া ও সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইসলাম ভূঁইয়া জানান, মাঠের পরিবর্তে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর শিক্ষার্থীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতেছেন।

নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব। কলেজ অধ্যক্ষ এ কে এম ওবায়দুল হকের সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠান হয়।

এছাড়াও জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক এবং সদস্য হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত শনিবার কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুযায়েল আহমেদ খান স্বাক্ষরিত একটি স্মারকলিপি কলেজ অধ্যক্ষের কাছে দেওয়া হয়েছিল। একই দাবিতে আগের দিন রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা পরিষদের প্রশাসকের কাছেও স্মারকলিপি দেয় সংগঠনটি।

বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে কলেজ ছাত্রদল যথাসময়ে নবীনবরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার ঘোষণা দেয়। শনিবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুবের সঙ্গে কলেজ ছাত্রদল ও কওমি ঐক্যের নেতারা দেখা করেন। এরপর স্থান পরিবর্তন করে কলেজের দক্ষিণ ক্যাম্পাসে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার কথা জানান কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি শাহাদাত হোসেন ভূঁইয়া।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...