ব্রেন্ডন টেলরের নতুন রেকর্ড: টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ার

ব্রেন্ডন টেলরের নতুন রেকর্ড: টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ার
ব্রেন্ডন টেলরের নতুন রেকর্ড: টেন্ডুলকারকে ছাড়িয়ে দীর্ঘতম ওয়ানডে ক্যারিয়ার
জিম্বাবুয়ের ব্রেন্ডন টেলর আজ পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তিনি ভারতের শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড ভেঙে ২২ বছর ১৪৮ দিন ধরে ওয়ানডে খেলছেন।

জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটার ব্রেন্ডন টেলর পুরুষদের ওয়ানডে ক্রিকেটে দীর্ঘতম ক্যারিয়ারের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। আজ মঙ্গলবার হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে মাঠে নেমে তিনি এই কীর্তি স্থাপন করেন। ৪০ বছর বয়সী টেলর ভারতের শচীন টেন্ডুলকারের ২২ বছর ৯১ দিনের রেকর্ড ভেঙে দিলেন।

টেলরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের স্থায়িত্ব এখন ২২ বছর ১৪৮ দিন। তিনি ২০০৪ সালের ২০ এপ্রিল ১৮ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক করেছিলেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি জিম্বাবুয়ের হয়ে খেলছেন।

তবে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের একসঙ্গে ধরলে ওয়ানডেতে সবচেয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারের মালিক এখনো সাবেক ভারতীয় ব্যাটার মিতালি রাজ। ১৯৯৯ সালে অভিষেকের পর থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তাঁর ক্যারিয়ারের ব্যাপ্তি ছিল ২২ বছর ২৭৪ দিন। শচীন টেন্ডুলকার ২০১২ সালে ওয়ানডে থেকে অবসর নেওয়ার আগে এই সংস্করণে ২২ বছর ৩ মাস ধরে খেলেছিলেন।

টেন্ডুলকারের তুলনায় টেলরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ব্যস্ততা কম ছিল। টেন্ডুলকার বছরে গড়ে ২১টি ওয়ানডে খেললেও টেলর বছরে খেলেছেন ১০টির কম ম্যাচ। ২০২৫ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার পর দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় তার কোনো ওয়ানডে খেলা হয়নি।

২০০৪ সালের অভিষেকের পর থেকে আজ এই ২০৮তম ওয়ানডে খেলতে নেমে টেলর জিম্বাবুয়ের ক্রিকেট ট্র্যাজেডি ও সাহসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। দল যখনই বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে, তিনি সামনে দাঁড়িয়েছেন। ২০৭ ওয়ানডেতে তার সংগ্রহ ৬৭০৪ রান ও ১১টি সেঞ্চুরি, যা জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ।

এই উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান ৩৭ টেস্টে ২৪২০ রান এবং ৫৮ টি-টোয়েন্টিতে ১১৮৫ রান করেছেন। তার ক্যারিয়ার সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০২১ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি ২০২২ সালে সাড়ে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন।

আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন ও অ্যান্টি-ডোপিং কোড ভঙ্গের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আসে। নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালে তিনি আবার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসেন। জিম্বাবুয়ে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নামিবিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির কারণে তিনি জাতীয় দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারারেতে আজ মঙ্গলবার শুরু হওয়া তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। জিম্বাবুয়ের মাটিতে এটি ১২ বছর পর দুই দলের প্রথম ওয়ানডে সাক্ষাৎ।

অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক মিচেল মার্শ এই ম্যাচে খেলছেন। ২০১৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার সর্বশেষ ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন। জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা ও ব্রেন্ডন টেলরও সেই ঐতিহাসিক জয়ের সাক্ষী ছিলেন এবং আজ তারা আবারও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামলেন।

আজকের ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে রয়েছেন মিচেল মার্শ (অধিনায়ক), ট্রাভিস হেড, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস, অ্যালেক্স ক্যারে, ম্যাট রেনশ, অলিভার পিক, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা ও স্পেন্সার জনসন।

অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ের একাদশে রয়েছেন ব্রায়ান বেনেট, বেন কারান, ইনোসেন্ট কাইয়া, ব্রেন্ডন টেলর, ক্রেইগ আরভিন, সিকান্দার রাজা (অধিনায়ক), ওয়েসলি মাধেভিরে, ব্র্যাড ইভান্স, নিউম্যান নিয়ামহুরি, ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ও ব্লেসিং মুজারাবানি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...