চট্টগ্রামে জিপিএ-৫ সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আহ্বান
সম্পাদক১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 2 ঘণ্টা আগে
চট্টগ্রামে জিপিএ-৫ সংবর্ধনায় শিক্ষার্থীদের বই পড়ার আহ্বান
চট্টগ্রামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনরা বই পড়ে নিজেদের জীবনের এভারেস্ট জয়ের আহ্বান জানান। এতে সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেয়।
চট্টগ্রামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের একটি সংবর্ধনা আজ, রবিবার, ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্কে অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার শিক্ষার্থী এই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। একটি জাতীয় দৈনিকের আয়োজনে এবং একটি ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে একটি জাতীয় দৈনিকের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রত্যেকের জীবনের সামনে একটি করে ‘এভারেস্ট’ পর্বত থাকে। সেই পর্বত পাড়ি দিতে অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জনের জন্য নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের নিজেদের লক্ষ্যকে ‘এভারেস্ট’ হিসেবে নিয়ে তা অর্জনের চেষ্টা করার আহ্বান জানান।
শিক্ষক ও বিশিষ্টজনরা শিক্ষার্থীদের বলেন, নিজের স্বপ্নগুলোই জীবনের এভারেস্ট। জীবনের এভারেস্ট জয় করতে হলে বই পড়তে হবে এবং পৃথিবীকে জানতে বেশি বেশি বই-পত্রিকা পড়তে হবে। নিজেকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইলে সুশৃঙ্খল হতে হবে এবং মা-বাবা ও শিক্ষককে সম্মান করতে হবে। মাধ্যমিকের ফলাফলের পর উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাতেও ভালো ফল করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দে মেতেছেন অভিনয় শিল্পী খায়রুল বাসার, কেয়া পায়েল, তৌসিফ মাহবুব ও সংগীত শিল্পী তানভীর ইভান। একটি জাতীয় দৈনিকের হেড অব কালচারাল প্রোগ্রাম কবির বকুল একে একে তারকাদের মঞ্চে ডেকে নেন।
আজ সকালে নগরের ফয়’স লেকের সামনে সকাল ৯টার আগেই শিক্ষার্থীরা জড়ো হতে শুরু করে। মূল ফটক দিয়ে ঢোকার পর তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস আর আনন্দ দেখা যায়। কেউ পার্কের বিভিন্ন রাইডে ছুটে যায়, কেউ আবার সেলফি বুথের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তোলে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে এবং পার্কজুড়েই উৎসবের আমেজ ছিল।
বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া তাসফিয়া জান্নাত তার পরিবারের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসেছিল। তাসফিয়া জানায়, ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই তার সামনে নতুন স্বপ্ন, ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়া। গুণীজনদের আলাপ শুনতে এবং নিজের স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পেতে সে অনুষ্ঠানে এসেছে।
বেলা দুইটায় জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। শুরুতে একটি জাতীয় দৈনিকের বিজ্ঞাপন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আজওয়াজ খানের সঞ্চালনায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জুলফিকার আলী বক্তব্য দেন। কনকর্ড গ্রুপের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা অনুপ কুমার সরকার ও এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেডের সিনিয়র পোর্টফোলিও ম্যানেজার (মার্কেটিং বিভাগ) ফারহান আহমেদও বক্তব্য রাখেন।
একটি জাতীয় দৈনিকের যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরীর সঞ্চালনায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান কাজী তানভীর আহমেদ বক্তব্য দেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মেহেরুন্নিসা, আনন্দসেবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উদ্যোক্তা আবিদা সুলতানা, এভারেস্টজয়ী পর্বতারোহী এম এ মুহিত ও বাবর আলীও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। এরপর বিশ্বজিৎ চৌধুরী শিক্ষার্থীদের মাদক, মিথ্যা ও মুখস্থকে না বলতে শপথ পড়ান।
একটি ডিজিটাল শিক্ষা প্ল্যাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীর চৌধুরী এবং এর মেন্টররা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। তারা শিক্ষার্থীদের জীবনের সব ফলাফলে ভালো করার জন্য অনুপ্রেরণা দেন। শুধু মাধ্যমিকে নয়, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পর্যায়েও ভালো করতে এখন থেকে পরিশ্রম করার পরামর্শ দেন তারা।
একটি জাতীয় দৈনিকের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে টমাস আলভা এডিসনের জীবনের একটি গল্প তুলে ধরেন। অটিজমে আক্রান্ত এডিসনকে তার মা কীভাবে আস্থা রেখে এগিয়ে নিয়েছিলেন, সেই গল্পের মাধ্যমে তিনি মা-বাবা ও শিক্ষকদের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে শিক্ষার্থীদের আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, একটি জাতীয় দৈনিক, একটি কিশোর সাময়িকী এবং একটি বিজ্ঞান সাময়িকী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছে।
মতামত (0)