চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন বই যুক্ত হচ্ছে
সম্পাদক১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 52 মিনিট আগে
চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন বই যুক্ত হচ্ছে
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে চারটি নতুন বই যুক্ত হচ্ছে। খেলাধুলা, সংস্কৃতি, আনন্দময় শিক্ষা ও আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে নতুন চারটি বই অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলা ও শারীরিক সুস্থতার গুরুত্ব, আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ, দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা এবং কারিগরি শিক্ষার প্রাথমিক জ্ঞান দিতে এসব বিষয় যুক্ত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
এনসিটিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন এই বইগুলোর পাণ্ডুলিপি তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে যখন নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে, তখন চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এসব বই বিনামূল্যে হাতে পাবে। এই সংযোজন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে।
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে খেলাধুলা, আনন্দময় শিক্ষা, সংস্কৃতি ও কারিগরি শিক্ষার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে। এই পরিবর্তনের অংশ হিসেবে চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা ও আমার সংস্কৃতি’ নামে একটি নতুন বই যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বইটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তুলবে এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে তাদের পরিচয় করিয়ে দেবে।
একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে আরেকটি নতুন বই অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই বইটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাকে আরও আনন্দঘন ও সৃজনশীল করে তুলতে সহায়তা করবে। এটি গতানুগতিক মুখস্থবিদ্যা থেকে বেরিয়ে এসে সক্রিয় শিক্ষাকে উৎসাহিত করবে।
এছাড়াও, ষষ্ঠ শ্রেণির ‘কর্ম ও জীবনমুখী শিক্ষা’ বিষয়ক বইয়ে একটি বড় ধরনের পরিমার্জন আনা হচ্ছে। এই পরিমার্জনের মূল উদ্দেশ্য হলো কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব শিক্ষার্থীদের কাছে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতের কর্মজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাথমিক ধারণা লাভ করবে।
এনসিটিবি সূত্র আরও জানায়, পাঠ্যবইয়ে এই পরিবর্তনগুলো দুই ধাপে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রথমত, বাক্য, শব্দ ও ভাষাগত ছোটখাটো সংশোধন করা হচ্ছে, যা পাঠ্যবইয়ের নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে। দ্বিতীয়ত, বিষয়বস্তু ও বিভিন্ন কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা শিক্ষার মান উন্নত করবে।
আগামী শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যবইয়ে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনার কাজ চলছে। মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ের ঘটনাও নতুনভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবে।
পাশাপাশি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও স্মৃতিচিহ্ন পাঠ্যবইয়ে গুরুত্ব সহকারে তুলে ধরা হচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি, খেলাধুলা, আনন্দময় শিক্ষা এবং কারিগরি শিক্ষাকেও পাঠ্যবইয়ে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এই বিষয়গুলো শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে সাহায্য করবে।
প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের কারিকুলামে নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে। চতুর্থ শিল্পবিপ্লব, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং খেলাধুলাবিষয়ক বিষয়গুলো এই নতুন সংযোজনের অংশ।
মাহ্দী আমিন আরও উল্লেখ করেন, রোবোটিক্স, এআই ও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এসব উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য। তিনি জানান, ২০২৭ সালের পাঠ্যপুস্তকে যতটা সম্ভব পরিমার্জন, সংযোজন ও বিয়োজন করা হচ্ছে। তবে ২০২৮ শিক্ষাবর্ষের কারিকুলামে আরও বড় ধরনের সংস্কার আনা হবে।
মতামত (0)