ঢাবি ছাত্রকে মারধর ও হুমকির অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কার

ঢাবি ছাত্রকে মারধর ও হুমকির অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কার
ঢাবি ছাত্রকে মারধর ও হুমকির অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকি ও মারধরের অভিযোগে হল থেকে বহিষ্কার এবং আবাসিক সিট বাতিল করা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকি দেওয়া এবং শারীরিকভাবে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক ছাত্রকে হল থেকে বহিষ্কার করেছে। পাশাপাশি অভিযুক্ত ওই ছাত্রের আবাসিক সিটও বাতিল করা হয়েছে। এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপের ঘোষণা শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, এই বহিষ্কারাদেশ ৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ থেকে কার্যকর হবে। অভিযুক্ত ছাত্রকে আগামী ছয় মাসের জন্য বিজয় একাত্তর হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসাথে যমুনা-৯০০৫ (সি-২) নম্বর কক্ষে তার জন্য বরাদ্দকৃত সিটটিও বাতিল করা হয়েছে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১৯ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক ১১টা ৫০ মিনিটে। বিজয় একাত্তর হলের যমুনা ব্লকের অতিথিকক্ষ-সংলগ্ন ওয়াশরুম ব্যবহারকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আহমেদ শাহরিয়ার নীড়ের সঙ্গে অভিযুক্ত ছাত্রের মধ্যে এই নিয়ে বাদানুবাদ শুরু হয়।

ভুক্তভোগী আহমেদ শাহরিয়ার নীড় অভিযোগ করে বলেন, ১৯ জুলাই রাত ১২টার দিকে তিনি ওয়াশরুমে যেতে চেয়েছিলেন। সেই সময় মাহফুজ নামের ওই ছাত্র তাকে বাধা দেন এবং অন্য একটি পাশের ওয়াশরুমে যেতে বলেন। নীড় জানান, যেহেতু পাশের ওয়াশরুমটি বন্ধ ছিল, তাই তিনি আবার আগের ওয়াশরুমে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

নীড়ের ভাষ্যমতে, এই প্রচেষ্টার সময় মাহফুজ তাকে আবারও বাধা দেন। এরপর তিনি নীড়কে ধাক্কা দেন এবং মারধর করেন। নীড়কে হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে দেয়ালের সঙ্গে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছিল। এ সময় তার হাতে আঘাত লাগে এবং আঘাতপ্রাপ্ত হাতের একটি ছবিও তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন।

আহমেদ শাহরিয়ার নীড় তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেছেন, ঘটনার সময় মাহফুজ তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন। একইসঙ্গে তাকে গেস্টরুমে নেওয়ার হুমকিও দেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এই গুরুতর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজয় একাত্তর হল প্রশাসন দ্রুত একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ঘটনাটির বিভিন্ন দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন এবং হলের নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

এদিকে, বহিষ্কৃত শিক্ষার্থী মাহফুজ বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এই বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

তবে মাহফুজের বিরুদ্ধে ডাকসু নির্বাচনের সময় ছাত্রশিবির কর্মীদের সাথে মিছিলে অংশ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি নির্বাচনের প্রচারণার সময় সাদিক কায়েমের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে ডাকসু নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেও তাদের একসঙ্গে চলাফেরার বেশ কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে এসব অভিযোগ এবং মাহফুজের সম্পৃক্ততা নিয়ে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...