লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায় আবেগাপ্লুত সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল একটি খোলা চিঠিতে অধিনায়কের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার মাঠে বাইরের জীবন তুলে ধরেছেন।
ফুটবল বিশ্বে নস্টালজিয়া ও আবেগের আবহ তৈরি হয়েছে লিওনেল মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণায়। দীর্ঘদিনের সতীর্থ রদ্রিগো ডি পল মেসির বিদায়ের সিদ্ধান্তে আবেগাপ্লুত হয়েছেন। আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির সঙ্গে কাটানো সময় এবং অধিনায়কের প্রতি নিজের গভীর শ্রদ্ধার কথা তিনি একটি খোলা চিঠিতে তুলে ধরেছেন।
ডি পল মেসির অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলেন ইন্টার মায়ামি ও আটল্যান্টা ইউনাইটেডের ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার আগে। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জন্য মেসি যা করেছেন, তা অতুলনীয়। তার ভেতরে এখন মূলত বিষণ্ণতা কাজ করছে এবং জাতীয় দলে মেসির প্রতিটি মুহূর্ত তার কাছে ভীষণ প্রিয়।
আর্জেন্টিনার ড্রেসিংরুমে মেসির অবসরের সিদ্ধান্তে কতটা আবেগ তৈরি হয়েছে, সেটিও ডি পল তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আর্জেন্টাইন হিসেবে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত আবেগঘন সময়। মেসিকে মাঠে দেখতে পাওয়া সবসময়ই তাদের জন্য বিশেষ কিছু ছিল।
বিশ্বজুড়ে আর্জেন্টিনার জার্সির জনপ্রিয়তার পেছনেও মেসির বড় অবদান দেখেন ডি পল। তিনি জানান, পৃথিবীর প্রতিটি প্রান্তে আর্জেন্টিনার জার্সি দেখা যায় এবং এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ১০ নম্বর। এই বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।
গত ৩১ আগস্ট মেসি নিশ্চিত করেন, আর্জেন্টিনার হয়ে আর মাঠে নামবেন না তিনি। এর মধ্য দিয়ে ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই তারকা ফুটবলার। ঘোষণার পর সতীর্থদের কাছ থেকে একের পর এক বিদায়ী বার্তা আসতে থাকে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেসিকে প্রথম দিকেই ডি পল বিদায়ী বার্তা জানান। তিনি মেসির সুখী জীবন কামনা করেন এবং তাদের সামনে থাকা সময়টুকু উপভোগ করার কথা বলেন। মেসিকে দেওয়া খোলা চিঠিতে ডি পল লিখেছেন, ‘দেশের প্রতি তার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, হার না মানার মানসিকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধৈর্য এবং অসাধারণ নেতৃত্বের জন্য কেবল ধন্যবাদই দেওয়া যায়।’
ডি পল মেসিকে সর্বকালের সেরা উল্লেখ করে বলেন, ‘মানুষের মুখে মেসি যে হাসি ফুটিয়েছেন, তা অকল্পনীয় এবং তিনি চিরন্তন।’ চিঠিতে মাঠের বাইরের মেসিকেও তুলে ধরেছেন এই মিডফিল্ডার। তিনি লিখেছেন, ‘সবসময় চেয়েছেন আর্জেন্টাইনরা জানুক, ক্যামেরা বা স্টেডিয়াম না থাকলে মেসি আসলে কেমন।’
ডি পল আরও জানান, মেসি কখনো নিজের কথা বলতে পছন্দ করতেন না; বরং চাইতেন তার বুটই মাঠে তার হয়ে কথা বলুক। মেসির সেই পর্দার আড়ালের দিনগুলো দেখার সুযোগ পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করেন তিনি। ফাইনালের আগের রাতগুলোতে মেসির ওপর থাকা চাপ, ভয়, দ্বিধা ও সমালোচনাও খুব কাছ থেকে দেখেছেন বলে ডি পল উল্লেখ করেন।
অন্য কেউ হলে হয়তো ভেঙে পড়ত, কিন্তু মেসি পরদিন সকালে উঠে আবার মাঠে নামতেন। তার জার্সি ও দেশের প্রতি ভালোবাসা কখনো বদলায়নি। তাই জাতীয় দলের হয়ে মেসির অবদান শুধু গোল বা শিরোপা দিয়ে বিচার করা সম্ভব নয় বলে ডি পল মনে করেন। বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতিও তিনি তার চিঠিতে তুলে ধরেছেন।
মতামত (0)