বিনোদনএকাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা ছাড়ার আক্ষেপে কারিনা কাপুর
একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা ছাড়ার আক্ষেপে কারিনা কাপুর
জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান একাদশ শ্রেণি শেষ করার পর পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে আজও আক্ষেপ করেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ব্যক্তিগত অনুশোচনার কথা প্রকাশ করেছেন।
জনপ্রিয় অভিনেত্রী কারিনা কাপুর খান তার শিক্ষাজীবন নিয়ে এক গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। একাদশ শ্রেণি শেষ করার পরপরই পড়াশোনা ছেড়ে অভিনয় জগতে পা রাখার সিদ্ধান্তটি আজও তাকে ভাবিয়ে তোলে। সিনেমার পর্দায় নাম লেখানোর পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও এই ব্যক্তিগত অনুশোচনা তাকে প্রতিনিয়ত পীড়া দেয়।
২০২৪ সালে কারিনা কাপুরের শেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিল ‘সিংহাম এগেইন’। এই সিনেমার পর থেকে তিনি চলচ্চিত্র জগতে ততটা সক্রিয় নন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার জীবনের নানা উত্থান-পতন এবং ব্যক্তিগত আক্ষেপের কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন।
অভিনেত্রী জানান, একাদশ শ্রেণির পর অভিনয় দুনিয়ায় পা রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর তার আর পড়াশোনা করা হয়নি। জীবনের এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত তার কাছে আজীবন যন্ত্রণার কারণ বলে উল্লেখ করেন কারিনা।
তিনি আরও বলেন, তিনি পড়াশোনা মাঝপথে বন্ধ করে দিতে চাননি। সবসময়ই তার ইচ্ছা ছিল লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার। তাই এই বিষয়ে তার এখনো আফসোস হয়।
কারিনা স্বীকার করেন, অনেকেই হয়তো তার এই আক্ষেপ নিয়ে ঠাট্টা করতে পারে বা যা খুশি বলতে পারে। তবে সেই সময়ে যে সুযোগটি এসেছিল, তাতে ক্লাস ইলেভেনের পর আর পড়াশোনা করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। সেই সময়ে অভিনয়কে বেছে নেওয়াই তার কাছে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হয়েছিল।
শুধু তা-ই নয়, নিজেকে প্রমাণ করার জন্যও তিনি সে সময় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এই কারণে, নিজে পড়াশোনা শেষ করতে না পারার সিদ্ধান্তটি আজও তাকে অনুশোচনায় ভোগায়।
নিজের জীবনের এই ভুল সিদ্ধান্ত থেকে শিক্ষা নিয়েই তিনি তার দুই ছেলের লেখাপড়ার ব্যাপারে ভীষণ সিরিয়াস। ছেলেদের তিনি পরামর্শ দেন, যাতে তারা নিজেদের পড়াশোনা শেষ করার পরই নিজেদের পছন্দের পেশা বেছে নেয়। তিনি চান না তার ছেলেরা তার মতো মাঝপথে পড়াশোনা ছাড়ার আক্ষেপে ভোগুক।
কারিনা তার দুই ছেলে তৈমুর ও জেহকে নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন, তিনি এবং কারিশমা দুই বোন হিসেবে বড় হয়েছেন। তাই দুই ছেলে থাকায় তাদের নিয়ে তার অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। এটিকে তিনি প্রায় এক অলৌকিক অভিজ্ঞতার মতো বলে বর্ণনা করেন।
অভিনেত্রী বলেন, তিনি কখনো কোনো ভাইয়ের সঙ্গে বড় হননি। তাই টিম এবং জেহকে দেখাটা তার কাছে অসাধারণ এক অনুভূতি। তিনি প্রতিদিন তাদের কাছ থেকে নতুন কিছু শিখছেন বলেও জানান।
বড় ছেলে তৈমুরের ব্যাপারে তিনি বলেন, তৈমুরের আপাতত বলিউডের প্রতি কোনো আগ্রহ নেই। বরং তার ঝোঁক খেলাধুলার দিকে। তৈমুর ক্রিকেটার অথবা ফুটবলার হতে চায় এবং তার স্বপ্ন আন্তর্জাতিক স্তরে খেলাধুলার মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার।
তবে ভবিষ্যতে তৈমুরের পছন্দ পরিবর্তনও হতে পারে বলে কারিনা মনে করেন। তিনি জানান, ছেলের পছন্দ পরিবর্তন হলেও তাতে তার কোনো আপত্তি নেই। চলচ্চিত্র পরিবারে জন্মেছে বলেই যে তৈমুরকে অভিনেতা হতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
মতামত (0)