একীভূত ব্যাংক থেকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন ৬ হাজার গ্রাহকের
সম্পাদক৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 2 ঘণ্টা আগে
একীভূত ব্যাংক থেকে প্রথম দিনে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন ৬ হাজার গ্রাহকের
একীভূত পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীরা গতকাল সোমবার থেকে অর্থ উত্তোলন শুরু করেছেন। প্রথম দিনে ছয় হাজার গ্রাহক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা তুলেছেন।
একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই ছয় হাজার গ্রাহক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক দুশ্চিন্তা কমতে শুরু করেছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক নামে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যাংকগুলোর সারাদেশে মোট ৭৬১টি শাখা রয়েছে।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানতের অর্থ ফেরত পেতে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৫ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের বিপরীতে গ্রাহকদের দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করে। এরপর গতকাল সোমবার সকালে চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শাখায় ওই অর্থ পাঠানো হয়।
গতকাল সোমবার রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও মালিবাগ এলাকার কয়েকটি শাখা ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই গ্রাহকরা নিজেদের আটকে থাকা আমানতের টাকা তুলতে আসছেন। অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে স্বাভাবিকভাবেই টাকা উত্তোলন করতে পেরেছেন।
দীর্ঘদিন পর নিজেদের জমা অর্থ হাতে পেয়ে গ্রাহকরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। টাকা উত্তোলনের সুযোগ চালু হওয়ায় ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমে তৈরি হওয়া অচলাবস্থা কাটতে শুরু করেছে বলেও মনে করছেন তারা। মতিঝিলে এক্সিম ব্যাংকের এক শাখায় টাকা তুলতে আসা এক গ্রাহক বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে নিজের জমা টাকা তুলতে না পারায় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। আজ টাকা হাতে পেয়েছি। এতে অনেকটাই স্বস্তি লাগছে।"
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান জানিয়েছেন, আমানত উত্তোলনের জন্য এসে কোনো গ্রাহক ফেরত যাবেন না। যারা টাকা তুলতে আসবেন, সবার টাকা ফেরত দেওয়া হবে।
ব্যাংকটির কর্মকর্তারা আরও জানান, গ্রাহকদের আবেদনের ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে আমানতের অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম চলবে। এই প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে জারি থাকবে।
মতামত (0)