এসএমই ঋণ: ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা

এসএমই ঋণ: ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা
এসএমই ঋণ: ছোট ও মাঝারি ব্যবসার জন্য আর্থিক সহায়তা
ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ঋণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। বুটিক শপ থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র উৎপাদন প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা এই ঋণের আওতাভুক্ত হতে পারে।

ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ বা এসএমই ঋণ উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক ঋণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। যারা ছোট পরিসরে ব্যবসা শুরু করতে চান, প্রতিষ্ঠানের পরিধি বাড়াতে চান অথবা নতুন শাখা খুলতে চান, তাদের জন্য এই ঋণ সুবিধা দেওয়া হয়। বুটিক শপ, ক্ষুদ্র উৎপাদন প্রতিষ্ঠান, সেবামূলক উদ্যোগ এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ নানা ধরনের ব্যবসা এই ঋণের আওতাভুক্ত হতে পারে।

অনেক উদ্যোক্তার মনে এসএমই ঋণ, ক্ষুদ্র ঋণ, জামানত, সুদের হার, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট তথ্যের আলোকে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। এসএমই শব্দটি ‘স্মল, মিডিয়াম ও এন্টারপ্রাইজ’ এর আদ্যক্ষর নিয়ে গঠিত। বাংলায় এর অর্থ হলো ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগ।

এই খাতের মধ্যে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের বিভিন্ন উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। একাধিক মানদণ্ডের মধ্যে কোনো একটির ভিত্তিতে যদি প্রতিষ্ঠান বড় শ্রেণিতে পড়ে, তবে সেই শ্রেণিই বিবেচনা করা হয়।

কুটির শিল্প বা উদ্যোগ বলতে এমন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয় যেখানে পরিবারের সদস্যদের প্রাধান্য থাকে। এসব প্রতিষ্ঠানে জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য প্রতিস্থাপন ব্যয়সহ ৫ লাখ টাকার নিচে থাকে। পারিবারিক সদস্যসহ এসব প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ ১০ জন জনবল থাকে।

মাইক্রো শিল্প বা উদ্যোগের ক্ষেত্রে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জমি ও কারখানা ভবন বাদ দিয়ে ৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত স্থায়ী সম্পদের মালিক হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে ১০ থেকে ২৪ জন শ্রমিক কাজ করে। সেবা ও ব্যবসা খাতের জন্য সম্পদ ও জনবলের সীমা ভিন্নভাবে নির্ধারিত হয়।

ক্ষুদ্র শিল্প বা উদ্যোগের ক্ষেত্রে উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ৫০ লাখ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫ থেকে ৯৯ জন শ্রমিক কাজ করে। সেবা ও ব্যবসা খাতের জন্য সম্পদের সীমা ৫ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা এবং জনবলের সীমা উৎপাদন খাতের থেকে আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়।

মাঝারি শিল্প বা উদ্যোগের আওতায় উৎপাদন খাতের এমন প্রতিষ্ঠান পড়ে যেখানে জমি ও কারখানা ভবন বাদে স্থায়ী সম্পদের মূল্য ১০ কোটি টাকার বেশি থেকে ৩০ কোটি টাকা পর্যন্ত হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে ১০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক কর্মরত থাকে। সেবা ও ব্যবসা খাতের জন্য সম্পদের সীমা ১ কোটি থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং জনবলের সীমা ৫০ থেকে ১০০ জন নির্ধারিত রয়েছে।

কোনো বুটিক শপের উদ্যোক্তা যদি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য নতুন শাখা খুলতে চান, তাহলে তিনি প্রতিষ্ঠানের ধরন ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এসএমই ঋণ পাওয়ার সুযোগ পান। এটি ব্যবসা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

সরকারের শিল্পনীতি-২০১০ অনুযায়ী, নারী উদ্যোক্তা হিসেবে বিবেচিত হতে হলে ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানে নারীকে স্বত্বাধিকারী বা প্রোপ্রাইটর হতে হবে। অংশীদারি প্রতিষ্ঠান কিংবা জয়েন্ট স্টক কোম্পানিতে নিবন্ধিত প্রাইভেট কোম্পানির ক্ষেত্রে নারীকে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানার অংশীদার হতে হয়।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা রয়েছে। পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের ন্যূনতম ১৫ শতাংশ অর্থ নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বরাদ্দ রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়াও, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক রেটের সঙ্গে ৫ শতাংশ যোগ করে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদহারে ঋণ দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে নারী উদ্যোক্তাকে শুধু ব্যক্তিগত জামানতের বিপরীতে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রধান, আঞ্চলিক ও নির্বাচিত শাখায় নারী উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ ও সেবা দেওয়ার ব্যবস্থাও চালু আছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা খাতে ঋণের সীমা ৫০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত। দৃষ্টি প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের ক্ষেত্রে ঋণের নিম্নসীমা ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়।

এসএমই ঋণের সুদের হার সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ও উপখাত অনুযায়ী নির্ধারণ করে। তবে সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে রাখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা রয়েছে। কিছু পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় নারী উদ্যোক্তা, প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তা, নতুন উদ্যোক্তা এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সুদে অর্থায়নের নির্দেশনা আছে।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত ঋণের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের জামানত চাইতে পারে। এর মধ্যে মজুদ পণ্য ও যন্ত্রাংশের হাইপোথিকেশন এবং স্থাবর সম্পত্তির মর্টগেজ অন্তর্ভুক্ত। কিছু ক্ষেত্রে গ্রুপ বা সামাজিক জামানতও চাওয়া হতে পারে। তবে জামানতের ধরন ও পরিমাণ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব নীতিমালার ওপর নির্ভর করে। এসএমই ঋণের জন্য সাধারণত বৈধ ট্রেড সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...