খেলাধুলা

ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন কাঠামো ও বর্ধিত ম্যাচ ফি

ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন কাঠামো ও বর্ধিত ম্যাচ ফি
ঘরোয়া ক্রিকেটে বিসিবির নতুন কাঠামো ও বর্ধিত ম্যাচ ফি
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় পরিবর্তন এনেছে। সম্প্রতি বোর্ড সভায় বর্ধিত ম্যাচ ফি এবং ছয় দলের নতুন কাঠামো অনুমোদন করা হয়েছে, যা ডিসেম্বরে টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ঘরোয়া ক্রিকেটে বড় ধরনের পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

পুরুষ ক্রিকেটারদের জন্য ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। চার দিনের ম্যাচে ক্রিকেটাররা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা করে পাবেন। এক দিনের ম্যাচে ১ লাখ টাকা এবং টি-টোয়েন্টিতে ৮০ হাজার টাকা ম্যাচ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

জাতীয় ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় একাদশের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি ১৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। শুধু পুরুষ ক্রিকেট নয়, নারী ক্রিকেটারদের জন্যও ম্যাচ ফি বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিন দিনের ম্যাচে ৪০ হাজার, এক দিনের ম্যাচে ৩০ হাজার এবং টি-টোয়েন্টিতে ২০ হাজার টাকা পাবেন তারা।

এছাড়াও, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটারদের দৈনিক ভাতা দ্বিগুণ করা হয়েছে। তাদের ভাতা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই আর্থিক পরিবর্তনগুলো ক্রিকেটারদের জন্য বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করবে।

তবে এই আর্থিক পরিবর্তনের আড়ালে আরও বড় একটি পরিকল্পনা রয়েছে। বিসিবি এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের তিন সংস্করণকে একই কাঠামোর মধ্যে আনতে চাইছে। এর আওতায় চার দিনের প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট, লিস্ট ‘এ’ এক দিনের ম্যাচ এবং লিস্ট ‘এ’ টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ছয়টি দল থাকবে।

আলাদা আলাদা প্রতিযোগিতার পরিবর্তে একটি নির্দিষ্ট দলভিত্তিক কাঠামোকে কেন্দ্র করে ঘরোয়া ক্রিকেট পরিচালিত হবে। এই দলগুলোর মালিকানায় দেশের বড় করপোরেট ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো আসতে পারে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে তিন বছরের জন্য দলগুলোর মালিকানাস্বত্ব দেওয়ার চিন্তা করছে বিসিবি।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ক্রিকেটারদের জন্য আরও ধারাবাহিক একটি ঘরোয়া কাঠামো তৈরি করা। এটি একটি ফ্র্যাঞ্চাইজি-ভিত্তিক ঘরোয়া ক্রিকেট কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সবকিছুর শুরু হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট দিয়ে। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরেই ছয় দলের প্রথম প্রতিযোগিতা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর একই দলগুলোকে চার দিনের এবং এক দিনের ক্রিকেটেও ব্যবহার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো যখন বিসিবি চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) না আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বোর্ডের পক্ষ থেকে বিপিএলের আর্থিক ও সাংগঠনিক কাঠামো নতুন করে সাজানোর প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে।

ফলে বিপিএলের বাইরে ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত প্রতিযোগিতা, ক্রিকেটারদের আয় এবং দলভিত্তিক কাঠামো—এই তিন জায়গাতেই একসঙ্গে পরিবর্তন আনার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। বিসিবির এই পরিকল্পনা মূলত ঘরোয়া ক্রিকেটের জন্য একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার ইঙ্গিত দেয়।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...