গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে: রাষ্ট্রপতি

গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে: রাষ্ট্রপতি
গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে সব সম্প্রদায়ের অধিকার নিশ্চিত হবে: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। তিনি আজ বঙ্গভবনে পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হলে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আজ রবিবার বঙ্গভবনে এক গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসে। এই দলে ১৫ জন সদস্য ছিলেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর এবং সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে যেতে হলে গণতন্ত্রের নিয়মিত চর্চা অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ভিত্তি ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। একইসঙ্গে তিনি দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন, যা একটি সুসংহত শাসনব্যবস্থার জন্য অপরিহার্য। রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ একটি কার্যকর, জবাবদিহিমূলক এবং স্বচ্ছ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তিনি সতর্ক করে দেন যে, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কোনোভাবে দুর্বল হয়ে পড়লে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার সুরক্ষিত রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান। তিনি সাম্প্রতিক সময়ে অনুষ্ঠিত জন্মাষ্টমী ও রথযাত্রাসহ হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে উদযাপনে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শর্মা তার বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন যে, হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে পুরোহিত ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানী কর্মসূচিসহ নানা ইতিবাচক উদ্যোগ অন্তর্ভুক্ত। তিনি রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন যে, সরকারের এসব পদক্ষেপের কারণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

পরিষদের নেতারা এই সময় দেশের হিন্দু সম্প্রদায়সহ সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকদের জন্য নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং সমান অধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তারা এই বিষয়গুলো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন। প্রতিনিধিদল আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে রাজধানী ঢাকার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপে উপস্থিত হয়ে ভক্ত ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্য রাষ্ট্রপতিকে সাদর আমন্ত্রণ জানান। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আমন্ত্রণ সানন্দে গ্রহণ করেন। তিনি প্রতিনিধিদলকে তাদের এই আন্তরিক উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে আরও বলেন, বর্তমান সরকার সাম্প্রদায়িক পরিচয়কে কোনোভাবেই অগ্রাধিকার দেয় না। বরং, সরকার যোগ্যতা, ন্যায়সঙ্গত অধিকার এবং সমতার ভিত্তিতে দেশের সব নাগরিকের জন্য ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। তিনি এই নীতিকে সরকারের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতি হিন্দু সম্প্রদায়সহ দেশের সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক এবং মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আসন্ন দুর্গাপূজা উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন, শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। এই গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...