গুম তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থার দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আহ্বান
সম্পাদক৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
গুম তদন্তে স্বাধীন ব্যবস্থার দাবিতে রাজনৈতিক দলগুলোর আহ্বান
সদ্য পাস হওয়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও এবি পার্টি। তারা গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) সদ্য পাস হওয়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। দল দুটি গতকাল সোমবার গণমাধ্যমে পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তাদের উদ্বেগের কথা জানায়। তারা বিলটিতে গুমের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ব্যবস্থার অনুপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন অভিযোগ করেছে যে, পাস হওয়া বিলে গুমের ঘটনার স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বরং অভিযুক্ত বাহিনী বা সংস্থাকে দিয়েই তদন্ত করানোর পুরোনো কৌশল বহাল রাখা হয়েছে। দলের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভূঁইয়া এক বিবৃতিতে এই মন্তব্য করেন।
নেতারা বলেন, রাষ্ট্র যখন নিজেই অপরাধী হয়, তখন অভিযুক্ত বাহিনী বা সংস্থার হাতেই তদন্তের ভার দেওয়া ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সঙ্গে চরম প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা দাবি করেন, স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কাঠামোর যে জাতীয় দাবি ছিল, সেটিকে উপেক্ষা করে বিলে মূলত অপরাধীদের সুরক্ষার পুরোনো আইনি বন্দোবস্ত বহাল রাখা হয়েছে।
রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন জোর দাবি জানায়, এই বিল গুম বন্ধের জন্য নয়; বরং গুমকে নির্বিঘ্নে পরিচালনা ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার একটি অপচেষ্টা। অবিলম্বে এই বিলের ‘বিতর্কিত ও কালো’ ধারাগুলো সংশোধন করে একটি পুরোপুরি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর গুম তদন্ত কমিশন গঠনের আইন পাসের জন্য দলটি আহ্বান জানিয়েছে।
আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলটির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত এমন কোনো বাহিনী বা প্রতিষ্ঠানের হাতে রাখা উচিত নয়, যাদের সদস্যদের বিরুদ্ধেই অতীতে গুমের অভিযোগ উঠেছে। তারা প্রস্তাবিত আইনগুলোকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
এবি পার্টি নেতারা গুমের তদন্তে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও বিশেষায়িত তদন্ত ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তারা বলেন, গুমের সঙ্গে শুধু সরাসরি জড়িত ব্যক্তিদের নয়; বরং নির্দেশদাতা, পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও নির্দেশদাতাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সত্য জানার অধিকার, ন্যায়বিচার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার আইনে সুস্পষ্টভাবে নিশ্চিত করার দাবি জানান।
দলটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে সরকারের প্রভাবমুক্ত ও প্রকৃত অর্থে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপর জোর দেয়। কমিশনকে নিজস্ব তদন্ত ক্ষমতা, পর্যাপ্ত জনবল, স্বাধীন বাজেট এবং অবাধ পরিদর্শনের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলেছে। তারা সম্ভাব্য গোপন আটককেন্দ্রসহ দেশের সব হেফাজতস্থলে পূর্বানুমতি ছাড়া পরিদর্শনের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।
মতামত (0)