হলান্ডের জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির শুভ সূচনা
সম্পাদক৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
হলান্ডের জোড়া গোলে চ্যাম্পিয়নস লিগে সিটির শুভ সূচনা
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। দলের নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে এই জয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড, যা তাকে ক্লাবের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে স্থান দিয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন মৌসুমে ম্যানচেস্টার সিটি পোর্তোকে ২-০ গোলে হারিয়েছে। এই জয়ে দলের হয়ে দুটি গোলই করেছেন আর্লিং হলান্ড। নতুন কোচ এনজো মারেসকার অধীনে এটি ছিল সিটির নতুন শুরু।
পেপ গার্দিওলার দীর্ঘ অধ্যায়ের পর মারেসকার জন্য এই দায়িত্ব কঠিন হলেও, চ্যাম্পিয়নস লিগের প্রথম ম্যাচে সেই চাপের ছাপ দেখা যায়নি। পোর্তোর মাঠে শুরু থেকেই সিটি আধিপত্য দেখায়। শেষ পর্যন্ত হলান্ডই ব্যবধান গড়ে দেন।
তবে প্রথমার্ধে পোর্তো গোলরক্ষক দিয়েগো কস্তা হলান্ডকে আটকে রেখেছিলেন। তিনি একবার দুর্দান্ত ঝাঁপিয়ে হলান্ডের শক্তিশালী হেড ফিরিয়ে দেন। পরে জোড়া সেভে নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকারকে আবারও হতাশ করেন। প্রথম ৪৫ মিনিটে কোনো গোল না হলেও, সিটি তাদের আক্রমণাত্মক মনোভাব বজায় রাখে।
বিরতির পর আর বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এনজো ফার্নান্দেজের ক্রস থেকে হলান্ড হেড করে বল জালে পাঠান। শটটি খুব জোরালো না হলেও, কস্তাকে ভুল পথে ফেলে বল নিচের কোণায় গড়িয়ে যায়, যার ফলে স্কোর দাঁড়ায় ১-০।
গোল হজম করার পর পোর্তো যেন কিছুটা সজাগ হয়। এরপর স্বাগতিকেরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ফিরে পেতে শুরু করে। এই সময়ে সিটির রক্ষণেও কিছুটা অস্বস্তি দেখা যায়। একবার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা গোল ছেড়ে বেরিয়ে এসে পেপেকে ফেলে দেন, যা অফসাইড না হলে পোর্তোর জন্য পেনাল্টি হতে পারত। পরবর্তীতে তার একটি ক্লিয়ারেন্স উইলিয়াম গোমেসের গায়ে লেগে অল্পের জন্য গোল হয়নি।
তবে শেষ পর্যন্ত পোর্তোর সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। যোগ করা সময়ের গভীরে রায়ান আইত নুরির ক্রস থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠিয়ে হলান্ড নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন। এই গোলের মাধ্যমে সিটির ২-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
এই দুটি গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৫৯ ম্যাচে হলান্ডের গোলসংখ্যা ৫৯-এ পৌঁছায়। তিনি এর আগেই চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্রুততম ২০, ৩০, ৪০ এবং ৫০ গোলের রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন। এবার দ্রুততম ৬০ গোলের রেকর্ড গড়ার হাতছানি তার সামনে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির চেয়ে অনেক কম ম্যাচে এই মাইলফলক ছুঁতে চলেছেন হলান্ড।
ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে এটি ছিল তার ১৬৭তম গোল। এই গোলের মাধ্যমে তিনি ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন।
ম্যাচ শেষে হলান্ড তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মঞ্চে আমাদের ওপর চাপ থাকে। আমাদের কাজ ছিল সেটা সামলে নিজেদের দায়িত্ব পালন করা। আজ আমরা সেটাই করেছি।’ চ্যাম্পিয়নস লিগে জয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘এই ম্যাচগুলো আপনাকে জিততেই হবে। না হলে হঠাৎ করেই সব চাপ আপনার ওপর চলে আসে। তারপর কী হবে, কেউ জানে না।’
মতামত (0)