ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা

ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
ইয়েমেনে তীব্র লড়াই, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা পতনের পর হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। তাইজ ও মারিবে সংঘর্ষ চলছে এবং হুতিরা সৌদি আরবেও হামলা চালিয়েছে।

লোহিত সাগরের তীরবর্তী ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা পতনের পর দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীর তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ শহরের কাছে কাধা এলাকায় দুই পক্ষের মুখোমুখি সংঘর্ষ চলছে। হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিব শহরের দিকে অগ্রসর হলে সেখানেও তারা সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।

ইরান-সমর্থিত হুতিরা সৌদি আরবেও হামলা জোরদার করেছে। গতকাল রোববার তারা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি বলছে, গত শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বাহিনী ১২৯টি বিমান হামলা চালিয়েছে। তাইজ ও মারিবের কাছেও তাদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

গতকাল রোববার হরমুজ প্রণালির কাছে জাহাজেও হামলার ঘটনা ঘটে। ইরান জানিয়েছে, হরমুজের অদূরে কাসেম দ্বীপের কাছে তাদের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিসহ মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য আজ সোমবার ওমানে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে ইরান।

যদিও বাহরাইন জানিয়েছে, তারা এ বৈঠকে অংশ নেবে না। আয়ারল্যান্ডের ডুনবেগে নিজের গলফ রিসোর্টে গতকাল রোববার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ইরানের সঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলো বৈঠক করলে তাতে তাঁর কিছু যায় আসে না। এটি তাদের বিষয়।

জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গত জুলাই মাস থেকে ইয়েমেনে নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সংস্থাটি জানায়, চলতি সপ্তাহে দুই হাজারের বেশি মানুষ লোহিত সাগরের পশ্চিম তীরে আফ্রিকার দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে।

তাইজ শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমে মাকবানাহ জেলার কাধা এলাকায় হুতি ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। ইয়েমেনের রাজধানী সানা থেকে একজন প্রতিবেদক জানান, গত বৃহস্পতিবার মোখা শহরের পতনের পর এটিই দুই পক্ষের প্রথম সরাসরি সংঘর্ষ। সরকারি বাহিনী সেখানে বিমান হামলাও চালাচ্ছে এবং দুই পক্ষই অতিরিক্ত সেনা পাঠাচ্ছে।

উত্তরাঞ্চলের মারিবের পশ্চিমে আল-মাশজাহ ও আল-জোর এলাকায় হুতিদের বড় ধরনের একটি হামলা সরকারি বাহিনী ঠেকিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাস ক্যাম্পের কাছেও সংঘর্ষ চলছে। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলির পাশাপাশি হুতিদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।

ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা বড় তেল ও গ্যাসকেন্দ্র রয়েছে মারিবে। শহরটিতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাও রয়েছে। এটি উত্তরাঞ্চলে সরকারি বাহিনীর প্রধান সরবরাহ ঘাঁটি। একজন পর্যবেক্ষকের মতে, যে পক্ষ এটি নিয়ন্ত্রণ করবে, ইয়েমেনের রাজস্বের প্রবাহ তার হাতে থাকবে।

ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয় ২০১৪ সালে। ওই বছর হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে এবং দেশটির বিভিন্ন এলাকায় নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বে একটি জোট ইয়েমেন সরকারের সমর্থনে সামরিক হস্তক্ষেপ শুরু করে। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির পর পক্ষগুলোর মধ্যে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এলেও সংঘাত নতুন করে তীব্রতর হওয়ায় গৃহযুদ্ধ আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মোখা ও পশ্চিম উপকূলে হুতিদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সরকারি বাহিনী বিমান হামলা চালাচ্ছে। সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আবদুল্লাহ আল-নাজিলি বলেছেন, মোখা-ধুবাব সড়কে হুতিদের যানবাহন ও যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। তাইজ অঞ্চলেও হুতিদের অবস্থান ও ব্যারাকে তিনটি বিমান হামলা চালানো হয়েছে।

সরকারি বাহিনীর একটি অংশ লোহিত সাগরের পশ্চিম উপকূল থেকে সরে গিয়ে মারিবে পুনর্গঠিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের সদস্য ও মারিবের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা। তিনি মোখা ও পশ্চিম উপকূলে সরকারি বাহিনীর পরাজয়কে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইয়েমেনের সরকারপন্থী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্স জানিয়েছে, গত ৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম উপকূলে হুতিদের সঙ্গে লড়াইয়ে তাদের পাঁচ শতাধিক সেনা নিহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। বাহিনীটির দাবি, একই সময়ে হুতিদের হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি। হুতিদের দ্রুত অগ্রযাত্রার পেছনে সরকারপন্থী বাহিনীর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও বিভক্তি ভূমিকা রাখছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...