ইলোন মাস্কের সাফল্যের আড়ালে লুকিয়ে আছে যন্ত্রণাকাতর শৈশব, বাবার মানসিক নির্যাতন ও স্কুল জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা। তার পারিবারিক সম্পদের উৎস নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
ইলোন মাস্ক বর্তমান বিশ্বের প্রযুক্তি ও বাণিজ্যের ময়দানে এক আলোচিত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি মঙ্গল গ্রহে বসতি স্থাপন, বৈদ্যুতিক গাড়ি বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন। তবে তার এই সাফল্যের পেছনের বাস্তব মানুষটি কেমন, তা অনুসন্ধান করলে তার গভীর ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও অসংখ্য বিপর্যয়ে সমন্বিত এক জীবনশৈলী ফুটে ওঠে।
ইলোন রিভ মাস্ক ১৯৭১ সালের ২৮ জুন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন। সেসময় দেশটিতে চরম বর্ণবাদী শাসন বিদ্যমান ছিল। তিনি একটি অবস্থাপন্ন পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেও, তার ভেতরের জগত ভয়, একাকীত্ব ও পালিয়ে যাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় ঘেরা ছিল।
ইলোনের বাবা এরল মাস্ক পেশায় একজন ইলেক্ট্রোমেকানিক্যাল প্রকৌশলী ও পাইলট ছিলেন। এরল অত্যন্ত প্রতিভাবান হলেও তার আচরণজনিত বহুমাত্রিক সমস্যার কারণে পরিবারে একটি অস্থির মানসিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ইলোন পরবর্তীতে নিজের শৈশবকে 'দুর্দশার সময়' হিসেবে বর্ণনা করেন এবং এর জন্য বাবাকেই দায়ী করেন।
জীবনীকার ওয়াল্টার আইজ্যাকসন জানিয়েছেন, এরলের আচরণ ছিল অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। তিনি কখনো খুব মিশুক ছিলেন, আবার পরক্ষণেই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতেন। দিনের পর দিন এরল ইলোনকে মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন। এমনকি তাকে 'মূল্যহীন' বা 'গাধা' বলেও গালি দিতেন। এই পরিবেশ ইলোনের মনে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে, যা তার পরবর্তী জীবনের কর্মপদ্ধতিতেও ছাপ ফেলেছিল।
ইলোন মাস্কের পারিবারিক সম্পদের উৎস নিয়েও দীর্ঘ বিতর্ক রয়েছে। বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মাস্ক পরিবারের সম্পদের একটি বড় অংশ জাম্বিয়ার একটি পান্না খনি থেকে এসেছিল। ইলোন নিজের 'স্বনির্ভর' ইমেজ ধরে রাখতে এই খনির অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। তবে এই সম্পদই তাকে শৈশবে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুযোগ করে দিয়েছিল বলে জানা যায়।
ইলোন মাস্কের শৈশবের মানসিক সংগ্রামকে আরও তিক্ত করে তুলেছিল তার স্কুল জীবনের অভিজ্ঞতাগুলো। স্বভাবগতভাবে তিনি শান্ত, নির্জনতাপ্রিয় ও প্রচণ্ড রকমের বইপড়ুয়া ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার উগ্র ও পেশিবহুল সংস্কৃতিতে তার এই 'বুদ্ধিজীবী' সুলভ আচরণ সহপাঠীদের কাছে হাসির পাত্রে পরিণত হয়।
এই পরিস্থিতি এক সময় চরম বিরোধিতায় রূপ নেয়। ব্রায়ানস্টন হাই স্কুলে একদল সহপাঠী তাকে উঁচু সিঁড়ি থেকে ফেলে দেয় এবং অচেতন না হওয়া পর্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করে। এই আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে, তাকে এক সপ্তাহ পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকতে হয়েছিল এবং পরবর্তীতে তার নাকের হাড়ের বক্রতা সারাতে জটিল অস্ত্রোপচারও করাতে হয়। হাসপাতাল থেকে ফেরার পর তার বাবা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে উল্টো এক ঘণ্টা বকাঝকা করেন।
মতামত (0)