মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না করলে ইরানকে আবারও ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এই হুমকি এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি না করলে ইরানকে আবারও ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। আজ রোববার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এই হুমকি দেন। এই হুমকি এমন এক সময়ে এলো যখন মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে হুতিদের হামলার পর এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত এবং ওই অঞ্চলে ভ্রমণরত মার্কিন নাগরিকদের সতর্ক করেছে। এদিকে তেহরান সতর্ক করেছে যে উপসাগরীয় অঞ্চলের কিছু দেশের সহায়তায় ইরানের ওপর নতুন করে হামলার পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। যেসব দেশ এই হামলায় সহায়তা করবে, তাদের পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে ইরান জানিয়েছে।
তবে ইরানের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওয়াশিংটনের সঙ্গে আবার আলোচনা শুরু করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে দুটি পথ খোলা আছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া, দেশটিকে অর্থনৈতিকভাবে পচে যেতে দেওয়া অথবা একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তিনি ইরানকে ‘ভালো আচরণ’ করার পরামর্শ দেন।
ট্রাম্প আরও বলেন, চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। হুতিদের প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং হুতিরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াই না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে ট্রাম্প তার ক্যাম্প ডেভিডের অবকাশ সংক্ষিপ্ত করে গতকাল শনিবার হোয়াইট হাউসে ফিরে আসেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইয়েমেনে হামলার সম্ভাব্য উপায় নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার লক্ষ্যেই ক্যাম্প ডেভিডে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প।
গত শুক্রবার মধ্যরাতের পর রিয়াদের প্রধান বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এএফপির সাংবাদিকেরা দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। রিয়াদ ও আশপাশের এলাকায় হামলার আশঙ্কায় সৌদি কর্তৃপক্ষ এর কিছু সময় আগে সতর্কবার্তা দিয়েছিল।
কয়েক ঘণ্টা পর হুতিরা রিয়াদের একাধিক ‘সংবেদনশীল’ স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। পাশাপাশি সৌদির শিল্পনগরী ইয়ানবুতে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনাতেও হামলার দাবি করা হয়। তাদের দাবি, ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় জানায়, রিয়াদের দিকে ছোড়া হুতিদের একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস’ করা হয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সৌদি আরবে হুতিদের অব্যাহত হামলার নিন্দা জানিয়েছে। কাতার, মিসর, জর্ডান, কুয়েত ও তুরস্কও রিয়াদে হামলার নিন্দা করেছে।
কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যেষ্ঠ গবেষক নওয়াফ ওবায়েদ জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে ইয়েমেনে হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। তার ভাষ্যমতে, বড় ধরনের এই হামলা জোটের অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে স্থল, সমুদ্র ও আকাশপথে চালানো হতে পারে।
হুতিদের ধারাবাহিক হামলার মুখে সৌদি আরবের সামরিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান গতকাল শনিবার বলেন, সৌদি আরবের ভূখণ্ডের অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর হামলা হচ্ছে। গত মাসে তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে সই হওয়া ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির’ আওতায় রিয়াদের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা দিতে আঙ্কারার কোনো আপত্তি নেই।
তবে তুরস্কের সহায়তা সরাসরি হামলার বদলে প্রতিরক্ষামূলক ও কারিগরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। একজন অধ্যাপক মনে করেন, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন প্রতিরোধ, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ, রাডার ও নজরদারি এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সৌদিকে সহায়তা করতে পারে তুরস্ক। একই সঙ্গে চলমান সংঘাত কমাতে দেশটি কূটনৈতিক ভূমিকাও রাখতে পারে।
মতামত (0)