ইউজিসির মেইল না পেয়ে ববি শিক্ষার্থীর পাঠানো ছবি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে ইবি প্রশাসন
সম্পাদক২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 2 ঘণ্টা আগে
ইউজিসির মেইল না পেয়ে ববি শিক্ষার্থীর পাঠানো ছবি দিয়ে কাজ চালাচ্ছে ইবি প্রশাসন
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গাফিলতিতে ইউজিসির প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের নোটিশ সময়মতো না আসায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর পাঠানো ছবি দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে ইবি।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের দাপ্তরিক গাফিলতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) থেকে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ সংক্রান্ত অফিসিয়াল মেইল নির্ধারিত সময়ে এসে পৌঁছায়নি। ফলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সংগ্রহ করা নোটিশের ছবি ব্যবহার করে ইবিতে যোগ্য শিক্ষার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম শুরু করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দাপ্তরিক যোগাযোগে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ইবি রেজিস্ট্রার বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো প্রজ্ঞাপনের অনুলিপিতে ‘আর্জেন্ট’ সিল দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ইউজিসি গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক (২০২২, ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫) প্রদানের উদ্দেশ্যে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপনে প্রকাশের ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে যোগ্য শিক্ষার্থীদের তথ্য ও মনোনয়ন পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী নির্বাচন ও মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ইবিতে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কোনো প্রজ্ঞাপন প্রচার করা হয়নি।
আবেদনের নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর ইবির একজন সাবেক নারী শিক্ষার্থীর স্বামী প্রজ্ঞাপনটি সংগ্রহ করেন। তিনি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তার এক বন্ধুর কাছ থেকে বিজ্ঞপ্তিটির ছবি সংগ্রহ করে পিডিএফ তৈরি করেন। পরবর্তীতে সেই পিডিএফ ইবি প্রশাসনের কাছে পাঠান।
এরপর অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশ্যে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনের অনুলিপিতেই ইবি রেজিস্ট্রার স্বাক্ষর করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। রেজিস্ট্রার অফিসের কম্পিউটার অপারেটর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো মেইল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আসেনি। তবে অফিসিয়াল চিঠি না এলেও ওই সাবেক নারী শিক্ষার্থীর স্বামী স্বপ্রণোদিত হয়ে প্রজ্ঞাপনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঠান।
প্রাপ্ত অনুলিপিটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে উপ-রেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছায়। সেটি প্রিন্ট করে উপাচার্যের কার্যালয়ে উপস্থাপন করা হয়। পরে ইবি রেজিস্ট্রার ওই কপিতে স্বাক্ষর করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক শাখার উপ-রেজিস্ট্রার হিলাল উদ্দিন বলেন, "আমার ভার্সিটি মেইলে প্রজ্ঞাপনটি আসেনি, এটি অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। আমার কোনো এক ছাত্রীর হাজবেন্ডের কাছে ছিল, আমি তার কাছ থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফাইলটি নিই।" তিনি আরও জানান, হোয়াটসঅ্যাপে প্রাপ্ত ফাইলটি প্রিন্ট করিয়ে স্যারকে দেখালে তিনি স্বাক্ষর করে আর্জেন্ট মার্ক করে দিতে বলেন।
উপ-রেজিস্ট্রার হিলাল উদ্দিন আরও বলেন, "প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের নোটিশ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই। নিশ্চয়ই সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল পাঠানো হয়েছে, কিন্তু আমাদের রেজিস্টার সাহেবের মেইলে কেন আসল না তা বুঝতে পারছি না।" তিনি নিজে অফিসে গিয়ে বারবার খোঁজ নিয়েছেন এবং স্যারের মেইল চেক করতে বলেছেন। মেইল না পেয়ে অন্য মাধ্যম থেকে চিঠি সংগ্রহ করে স্যারকে দেখিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে নিয়েছেন এবং বর্তমানে এটি নিয়ে কাজ শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক আতিকুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "আমি অফিস আদেশের ভিত্তিতেই বিজ্ঞপ্তি প্রচারের নির্দেশ দিয়েছি।" তিনি মিটিংয়ে আছেন জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাপ্তরিক যোগাযোগে এমন ঘটনা এটাই প্রথম নয় বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। গত বছরও ইউজিসির মেধাবৃত্তির কোনো প্রাতিষ্ঠানিক নোটিশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময়মতো পায়নি। সেবারও ওই সাবেক নারী শিক্ষার্থীর স্বামী নিজে উদ্যোগী হয়ে অনলাইন ও অন্যান্য মাধ্যম থেকে ইউজিসির বৃত্তির নোটিশ সংগ্রহ করে রেজিস্ট্রার শাখায় জমা দিয়েছিলেন।
পরে তার সরবরাহ করা নোটিশের ভিত্তিতেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৃত্তির বিজ্ঞপ্তি প্রচার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ বিষয়ে তৎকালীন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক বলেন, "বিষয়টা আমার স্মরণে আসছে না। আমার সময়কালে অনেক বৃত্তিই তো গেছে। হেলাল সাহেব নিয়ে আসছে, আমি সাইন করে দিয়েছি বা ট্রেজারারের সঙ্গে মিটিং করে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
মতামত (0)