ইউপি নির্বাচন ঘিরে ইসি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা
সম্পাদক১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
ইউপি নির্বাচন ঘিরে ইসি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে সরকার জানিয়েছে, এ বিষয়ে তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি, যা ইসি ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতাকে সামনে এনেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ও সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতা প্রকাশ্যে এসেছে। গত সোমবার ইসি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করে। এই ঘোষণার একদিন পর গতকাল মঙ্গলবার সরকারের দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ইসির সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগ না করার অভিযোগ এনেছেন।
ইসি গত সোমবার সাত ধাপে ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছিল। সংস্থাটি তখন জানিয়েছিল, এটি একটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে বৈঠক করে চূড়ান্ত দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সাংবাদিকদের জানান, ইউপি নির্বাচনের সময়সূচি সম্পর্কে সরকার কিছু জানে না। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে ইসির কোনো আলোচনা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রতিমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কিছুক্ষণ পর ইসি সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ইউপি নির্বাচনের যে সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
ইসি সূত্রগুলো জানায়, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনের। এই ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে তফসিল চূড়ান্ত করার কোনো বাধ্যবাধকতা আইনে নেই। তবে দীর্ঘদিনের রীতি অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে ইসি এবং সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে থাকে।
এছাড়াও, তাদের মধ্যে চিঠি আদান-প্রদানও হয়। এবার এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। তবে ইসি গত জুলাইয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল, যেখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন দেওয়ার সময় হয়েছে কি না, বা সীমানাসংক্রান্ত ও আইনি কোনো জটিলতা আছে কি না, সে বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছিল।
ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাসংক্রান্ত তথ্য পাঠায়। তবে সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য পৌরসভার তথ্য এখনো ইসি পায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর ইসি কিছুটা অস্বস্তির মধ্যে পড়েছে।
ঘোষিত দুটি ধাপের ভোটের তারিখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে ইসি মনে করে, তারা আইনি এখতিয়ারের ভিত্তিতেই সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছে এবং তাদের দিক থেকে কোনো ত্রুটি হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গতকাল সকালে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, "ইউপি নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে সরকার কিছু জানে না। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ও কিছু জানে না। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরকারের এ বিষয়ে কোনো চিঠি-চালাচালি হয়নি। অন্য কোনো মাধ্যমে আলোচনাও হয়নি।"
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং তাদের নির্বাচন করার সাংবিধানিক ক্ষমতা রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সরকারের সঙ্গে আলোচনার পর তারিখ ঘোষণা করে। এ ধরনের আলোচনায় প্রস্তুতি সভা বা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা করা হয়, যেখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে কথা বলেন। তিনি বলেন, সংবিধানে জাতীয় ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ইসি স্বাধীন হলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সিদ্ধান্ত সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমেই নির্ধারিত হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন ও সরকার সমন্বয় করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
গতকাল সকালে নির্বাচন ভবনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এটি নিশ্চিত। তিনি জানান, নির্বাচন কবে, কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে কমিশনে দুই দিন ধরে প্রাক্-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গত সোমবার একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে, যা একেবারেই প্রাথমিক।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, "উনি (প্রতিমন্ত্রী) যেটা বলেছেন, সেটা শিরোধার্য। তবে এ বিষয়ে পাল্টা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা আমি দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।" সরকারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি এ মুহূর্তে কার সঙ্গে কখন, কীভাবে আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বাড়তি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ইসি প্রথম ধাপে ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপে ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপে ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপে ১৭ জানুয়ারি এবং পঞ্চম ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি ভোট করার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে। ষষ্ঠ ধাপে আগামী বছরের ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ধাপে ২৭ মে ভোট করার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
এর মধ্যে ৩০ ডিসেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন ভোটের সম্ভাব্য তারিখ রাখায় বিএনপি নেতাদের কেউ কেউ অনানুষ্ঠানিকভাবে ইসির কাছে আপত্তি জানিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার গণিত বিষয়ে পরীক্ষা রয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিবর্তন না হলে সেদিন ভোট করা সম্ভব হবে না, কারণ পরীক্ষার দিন ভোট হওয়ার নজির নেই।
মতামত (0)