জাকসুর এক বছরে ৩.৫ কোটি টাকার উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজ
সম্পাদক২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 2 ঘণ্টা আগে
জাকসুর এক বছরে ৩.৫ কোটি টাকার উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কাজ
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরে প্রায় ৩.৫২ কোটি টাকার উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণমূলক কাজ করেছে, যার বেশিরভাগ অর্থ এসেছে স্পনসরশিপ থেকে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) এক বছরের দায়িত্বকালে প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা আর্থিক মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়ন ও শিক্ষার্থী-কল্যাণমূলক কাজ সম্পন্ন করেছে। এসব কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাকসু প্রায় ১৮ লাখ টাকা অর্থ পেয়েছে। বাকি অর্থের একটি বড় অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ফার্মের স্পনসরশিপ ও সহযোগিতা থেকে এসেছে।
আজ রবিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় জাকসু ভবনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। জাকসুর সদ্য সাবেক সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ফেরদৌস আল হাসান এই তথ্য তুলে ধরেন।
জাকসুর তথ্য অনুযায়ী, দায়িত্বকালীন সময়ে মোট ৩৩৮টি কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল সভা-সেমিনার, প্রশিক্ষণ, আবাসিক হলের সুবিধা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন, পরিবহন ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।
ফেরদৌস আল হাসান সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর জাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ফার্মের সহযোগিতা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি উল্লেখ করেন, অনেক ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেও বাজেট সংকটের কারণে কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাওয়া যায়নি।
পরে স্পনসরশিপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে। জাকসুর দেওয়া তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্পে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। ২১টি আবাসিক হলে ডেস্কটপ কম্পিউটার সেটআপ ও টেবিল সরবরাহে প্রায় ১১ লাখ ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।
আবাসিক হলগুলোতে গরম ও ঠান্ডা পানির সুবিধাসহ আধুনিক ফিল্টার স্থাপনে প্রায় ৭ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। প্রতিটি হলে একটি করে বুস্টার স্থাপনে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। ১৬টি আবাসিক হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে ধর্মীয় পাঠাগার স্থাপনে প্রায় ৮ লাখ ৮৯ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা সহজ করতে ‘টিউটর হাব’ ওয়েবসাইটে ৪৫ হাজার টাকা, ‘জাবি’ ওয়েবসাইটে ৫০ হাজার টাকা এবং রক্তদানবিষয়ক ওয়েবসাইট তৈরিতে ৩৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ট্র্যাকার মেশিন স্থাপন ও বাস ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুতেও প্রায় ২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। স্পনসরশিপের কারণে এই খাতে জাকসুর প্রকৃত ব্যয় কমেছে বলে জানানো হয়।
ক্যারিয়ার ও উচ্চশিক্ষায় শিক্ষার্থীদের সহায়তায় ‘ক্যারিয়ার পাথ অ্যান্ড হায়ার এডুকেশন এক্সপো’ আয়োজন করা হয়। এতে দুই হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা হলেও বিশ্ববিদ্যালয় বা জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।
‘ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন এক্সপো’তে প্রায় ২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ৪ লাখ টাকা ছিল এবং জাকসু থেকে ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়। বিনামূল্যে আইইএলটিএস কোর্সের দুই ধাপে ৭০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণের সুযোগ পেয়েছেন।
প্রথম ধাপে ৩০০-এর বেশি এবং দ্বিতীয় ধাপে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। এই দুই কার্যক্রমের আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৩ লাখ ও ৪ লাখ টাকা হলেও জাকসুর কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি বলে জানানো হয়েছে। ‘বেসিক কম্পিউটার কোর্সে’ প্রায় এক হাজার এবং ‘অ্যাডভান্স কম্পিউটার স্কিল ফর একাডেমিক ইউজ’ কোর্সে এক হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। কোর্স দুটির আর্থিক মূল্য যথাক্রমে প্রায় ৫ লাখ ১৫ হাজার ও ২ লাখ টাকা।
এ ছাড়া ‘ফ্লুয়েন্ট ফিউচার ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স’-এ ইংরেজি, জাপানি ও সফট স্কিল বিষয়ে ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। এই কর্মসূচির আর্থিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। ‘নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ মেথডোলজি কোর্স উইথ রিসার্চ প্রজেক্ট’-এ বিজ্ঞান, আইবিএ, ব্যবসা এবং কলা ও সামাজিক বিজ্ঞান শাখার প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য প্রায় ১৬ লাখ টাকা বলে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, জাকসুর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে বড় পরিসরে একটি জব ফেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৭ হাজার শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১৬ লাখ টাকা। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপের কারণে জাকসুর নিজস্ব ব্যয় ছিল প্রায় ১ থেকে দেড় লাখ টাকা।
শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে ‘মেন্টাল হেলথ ফ্রি কাউন্সেলিং ক্যাম্প’ আয়োজন করা হয়। এতে ৮০০-এর বেশি শিক্ষার্থী সেবা নেন এবং প্রায় ২০ জন চিকিৎসক অংশ নেন। কর্মসূচিটির আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। শিক্ষার্থীদের বিনোদনের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি স্থানে বিনামূল্যে সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়। জাকসুর তথ্যমতে, এই আয়োজনের আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৩৮ লাখ টাকা।
মতামত (0)