জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন খলিলুর রহমান
সম্পাদক৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলেন খলিলুর রহমান
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, সব সমস্যার সমাধান দ্রুত না হলেও চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন খলিলুর রহমান। বিশ্বের সব সমস্যার সমাধান দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে শেষ নাও হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টায় কোনো ঘাটতি থাকবে না বলে গতকাল মঙ্গলবার তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই ঘোষণা দেন।
চার দশক পর বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার দায়িত্ব নেন।
এর আগে গত ২ জুন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদের নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থী খলিলুর রহমান বিজয়ী হন। তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিসকে পরাজিত করেন। এই নির্বাচনে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
গতকাল মঙ্গলবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় দুপুরে খলিলুর রহমান শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতিসংঘের সদর দপ্তরে এক ব্রিফিংয়ে তিনি তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং সুযোগ কাজে লাগাতে জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও সংলাপকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবেন বলে তিনি জানান।
খলিলুর রহমান বলেন, "সব সমস্যার দ্রুত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার মতো সরল ব্যক্তি আমি নই।" তিনি আরও যোগ করেন, কিছু বিষয় আছে, যা সমাধান ছাড়া থেকে যাবে এবং কিছু বিষয় থাকবে, সেগুলোর সমাধান পেতে সময় লাগতে পারে। তবে যেখানে সম্ভব, সেখানে সহাবস্থানে যাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জাতিসংঘের সদস্যদেশগুলোর সহযোগিতা প্রত্যাশা করে খলিলুর রহমান বলেন, "আমি মনে করি, সদস্যরাষ্ট্রগুলো যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে আমার কাজ সহজ হয়ে যাবে।" তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের বৈশ্বিক সংস্থার সংস্কারে দেওয়া প্রস্তাবগুলো এগিয়ে নিতে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এই সংস্কার প্রক্রিয়াকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
নাগরিক সমাজ, ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এবং শিক্ষাবিদসহ সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষকে জাতিসংঘের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার আশা প্রকাশ করেন খলিলুর রহমান। তিনি মনে করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জাতিসংঘের লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। এই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রক্রিয়াকে তিনি গুরুত্ব দেন।
বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা জাতিসংঘে কীভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, এমন এক প্রশ্নের জবাবে খলিলুর রহমান তার পূর্ব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এর আগে বাংলাদেশ সরকারপ্রধানের রোহিঙ্গাবিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে তিনি পরিস্থিতি সরাসরি দেখেছেন। রোহিঙ্গাদের যন্ত্রণা ও বাড়ি ফেরার তাড়না তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।
এর আগে ১৯৮৬ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। রাজনীতিতে যোগদানের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের ফাঁকে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী জাতীয় সংসদের স্পিকার হন।
মতামত (0)