জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড এবং ৪,৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে আজ মঙ্গলবার।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন পর্যায়ে সেরা ফল অর্জনকারী ৫৭ জন মেধাবী শিক্ষার্থীকে ‘ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেছে। একই অনুষ্ঠানে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিতসহ মোট ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়। আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্নাতক (পাস), স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছরে সেরা ফলাফল অর্জনকারী ৩৭টি কলেজের ৫৭ জন শিক্ষার্থীকে এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়েছে। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়। এই খাতে মোট ১৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথমবারের মতো চালু করা ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৫২৫টি কলেজের ৪ হাজার ৯২১ জন শিক্ষার্থীকে শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। বৃত্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আহত ও শহিদ পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থীরাও রয়েছেন। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যেতে সহায়তা করবে।
২০২৫ সালের জন্য নির্বাচিত ৮৩০টি কলেজের ২ হাজার ৮৯৭ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৭৩ লাখ ৮২ হাজার টাকা শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়েছে। একইভাবে, ২০২৪ সালের জন্য নির্বাচিত ৭২৫টি কলেজের ২ হাজার ২৪ জন শিক্ষার্থীকে জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি কৃতি শিক্ষার্থীদের হাতে সম্মাননা ও শিক্ষাবৃত্তির অর্থ তুলে দেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক লুৎফর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। এছাড়াও প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন বক্তব্য রাখেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী আনিছা আক্তার লাবনী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় সিজিপিএ ৪-এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯৭ পেয়ে সারা দেশে সেরা ফল করেছেন। তিনি এই ফলাফলের স্বীকৃতি হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ভাইস চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ করেছেন। আজ মঙ্গলবার শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের কাছ থেকে তিনি সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও শিক্ষাবৃত্তির চেক গ্রহণ করেন।
লাবনী ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি হরিরামপুর উপজেলার দানিস্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে লাবনী বলেন, "এই অর্জন আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের। শিক্ষক, পরিবার ও স্বজনদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য সম্ভব হতো না। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।"
মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাহফিল খান লাবনীর অর্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, "লাবনীর এই অর্জনে আমরা গর্বিত। তাঁর মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া এ পুরস্কার আমাদের কলেজের জন্যও গর্বের।"
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, "শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘাড়ে বন্দুক রেখে গুলি করা চলবে না। আমিও ট্রিগার টানতে জানি। সব সমস্যার সমাধান করবোই।"
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তির আওতায় আনা হবে বলেও শিক্ষামন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, এসএসসির খাতা চ্যালেঞ্জ করে ৩০৭৯ শিক্ষার্থী নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এ পরীক্ষকদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং যারা খাতা ঠিকমতো দেখেননি, তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ল কলেজের বাড়তি ফি আদায় প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "পত্রিকায় দেখলাম জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রচুর আয় করছে। ল কোর্সের ফরম ফিলাপের ফি দ্বিগুণ-তিনগুণ করা হয়েছে। কেন? জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কী টাকা আয় করা এবং বাড়ানোর জন্য? টাকার এত প্রয়োজন কেন?" শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি নির্বাচনে নতুন নিয়ম আসছে।
মতামত (0)