জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ৭ দফা দাবি: এসআরবি গঠন বন্ধের আহ্বান

জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ৭ দফা দাবি: এসআরবি গঠন বন্ধের আহ্বান
জেএসডি ও রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের ৭ দফা দাবি: এসআরবি গঠন বন্ধের আহ্বান
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে র‌্যাবের পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধসহ ৭ দফা দাবি জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এক আলোচনা সভায় তারা এই দাবি উত্থাপন করে।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে র‌্যাবের ক্ষমতা, জনবল, কর্তৃত্ব, সম্পদ ও প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার পল্টনে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা থেকে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। ‘র‌্যাব থেকে এসআরবি: কসাই বাহিনীর পুনর্বিন্যাস, গুম-খুনের নতুন বন্দোবস্ত’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সভায় ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে এসআরবির নামে জবাবদিহিহীন বিশেষ বাহিনী গঠন না করার বিষয়টিও রয়েছে। প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে বিতর্কিত বিশেষ বাহিনীর কাঠামোতে ব্যবহার বন্ধ করার দাবিও জানানো হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর কোনো সদস্যের অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অধীনে কাজ করার কথা নয়। ক্ষমতাকাঠামোর কারণে এসব বাহিনী ক্রমাগত ভয়ংকর হয়ে ওঠে বলে তিনি মন্তব্য করেন। অভ্যুত্থানের পর জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদের নামে বন্দিশালা স্থাপন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

হাসনাত কাইয়ূম আরও অভিযোগ করেন যে, সরকার প্রতিনিয়ত জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে। সভার সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সিনিয়র সহসভাপতি তানিয়া রব বলেন, রাষ্ট্রের নিয়মিত বাহিনী থাকার পরও যখন বিশেষ বাহিনী গঠন করা হয়, তখনই তার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তিনি ভয়ের সংস্কৃতি উপেক্ষা করে গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন লড়াই শুরু করার আহ্বান জানান।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম তাঁর বক্তব্যে বলেন, সেনাবাহিনীর সদস্যদের পুলিশের কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত করা হলে তা রাষ্ট্রে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, র‌্যাবের চেয়ে এসআরবিকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও বেশি শক্তিশালী করা হয়েছে।

আলোচনা সভা থেকে উত্থাপিত ৭ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করা। ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৬’ সংশোধন করার দাবিও জানানো হয়েছে। প্রতিটি গ্রেপ্তার, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ সম্পূর্ণভাবে নথিবদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক করার কথাও বলা হয়।

সর্বশেষ দাবিতে সব আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের ওপর কার্যকর বিচারিক, সংসদীয় ও বেসামরিক নজরদারি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সভায় বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, স্থায়ী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন এবং রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সহসভাপতি হাবিবুর রহমান রাজা।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...