ঝালকাঠিতে নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন

ঝালকাঠিতে নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন
ঝালকাঠিতে নদীভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে মানববন্ধন
ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় খয়রাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে স্থানীয়রা মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন।

ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার ৯ নম্বর দপদপিয়া ইউনিয়নের ভরতকাঠি ও পশ্চিম বীর নারায়ণ এলাকায় খয়রাবাদ নদীর ভয়াবহ ভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থার দাবিতে আজ মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয়রা। নদীতীর সংরক্ষণ, স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও সড়ক নির্মাণ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয় এই কর্মসূচি থেকে।

আজ রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে দপদপিয়া ইউনিয়ন খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধ সংগ্রাম কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্কুলশিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কয়েক শতাধিক মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়ক ডা. মনীষা চক্রবর্তী নদীভাঙনকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য দীর্ঘদিনের বিভীষিকা বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একবার নদীতে ঘরবাড়ি হারালে মানুষ নতুন করে ঘর তুলেও স্থায়ী নিরাপত্তা পায় না, তাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়। নদীভাঙনকবলিত মানুষের পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণে কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী অভিযোগ করে বলেন, জলবায়ু তহবিলের অর্থের সুফল নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। একই সঙ্গে নদীভাঙন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারও ঘাটতি রয়েছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমরা জানুয়ারি মাস, ডিসেম্বর মাস থেকে শুনছি এখানে বেড়িবাঁধ হবে, এখানে রাস্তা হবে। কবে হবে? আর কয়টা বর্ষার সিজনে কয়শ লোকের ঘরবাড়ি ভাঙলে পরে আপনারা রাস্তা করবেন, বেড়িবাঁধ করবেন—এই প্রশ্ন তো এলাকার মানুষ করতে চায়।"

নদীভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ছোট ছোট শিশুরা ঠিকভাবে স্কুলে যেতে পারছে না। পানিতে ভিজে গেলে পোশাক পরিবর্তনের জন্য তাদের অতিরিক্ত পোশাক সঙ্গে রাখতে হয়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে জরুরি রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।

এমনকি এলাকার কবরস্থানও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এর আগে উপজেলা প্রশাসনের কাছে একই দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ডা. মনীষা চক্রবর্তী বলেন, জেলা প্রশাসকের কাছে দাবি জানানোর পরও যদি কাজ না হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ বৃহত্তর আন্দোলনে গেলে তার দায় তাদের ওপর চাপানো যাবে না। এমন আন্দোলনের যৌক্তিক ভিত্তি ও ন্যায্যতা থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সরকারের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করলেই হবে না, মানুষকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ ও রাস্তাঘাট নির্মাণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদের রাস্তাঘাট নির্মাণ করুন। আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদের বাড়িঘর রক্ষা করুন। আমাদের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে আমাদেরকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করুন।”

খয়রাবাদ নদীভাঙন প্রতিরোধের আন্দোলনে বাসদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, “এই খয়রাবাদ নদীভাঙন আন্দোলন যতদিন চলবে, সেই আন্দোলনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল বাসদের পক্ষ থেকে আমরা এই আন্দোলনের সঙ্গে আছি।”

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...