যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়াল
সম্পাদক১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 54 মিনিট আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম গ্যালনে রেকর্ড ৬ ডলার ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ উদ্বেগ এবং অভ্যন্তরীণ ভোক্তা চাপের মধ্যে নতুন রেকর্ড স্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি ঘটেছে। দেশটিতে জ্বালানির উচ্চমূল্য নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান চাপ রয়েছে এবং সামনে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
জ্বালানির দামের তথ্য সংগ্রহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে উঠে যায়। এক বছর আগের তুলনায় দেশটিতে ডিজেলের দাম ২ দশমিক ৩০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি দেশটির অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
ডিজেলের দাম বাড়ার প্রভাব কেবল গাড়ির জ্বালানি খরচে সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে খাদ্য, গৃহস্থালির সামগ্রী এবং ডেলিভারি সেবাসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দামে। ফলে ডিজেলচালিত গাড়ি নেই এমন পরিবারও শেষ পর্যন্ত এই বাড়তি খরচ বহন করে।
পেট্রোলিয়াম বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান প্যাট্রিক ডি হান বলেছেন, প্রতিদিন নতুন রেকর্ড তৈরি হয় না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ডিজেলের এই রেকর্ড দাম অর্থনীতির জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের।
এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান না হলেও প্রতিটি পণ্য, চালান এবং ডেলিভারির ব্যয় বাড়বে। সরবরাহ ব্যবস্থার বিভিন্ন ধাপে এর প্রভাব পড়ে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডিজেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রে এই সময়ে ডিজেলের মৌসুমি চাহিদা বৃদ্ধি পায়, যা দাম বাড়ার একটি কারণ। একই সময়ে বিভিন্ন শোধনাগারে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে।
ফলে চাহিদা বাড়ার সময়েই শোধনাগারগুলোর একটি অংশের উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। এটি অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করছে।
তবে উদ্বেগের বড় কারণ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজার নয়, বিশ্ববাজারেও ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি চাপে রয়েছে। ইউরোপে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ২ ইউরোর ওপরে উঠেছে। এর ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ গাড়িচালকদের বাড়তি খরচ থেকে কিছুটা স্বস্তি দিতে সরকারি সহায়তার মেয়াদ বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে।
এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হচ্ছে, যা জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার বিভিন্ন শোধনাগারে ইউক্রেনের ড্রোন হামলাও অব্যাহত রয়েছে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎসগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, মধ্যপ্রাচ্য এবং রাশিয়া থেকে সরবরাহ কমে গেলে সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করার মতো অতিরিক্ত শোধনক্ষমতা বিশ্বের অন্য দেশগুলোর হাতে নেই। ফলে বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সংকট দীর্ঘায়িত হতে পারে।
এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে পরিবহন এবং পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায়। ডিজেলের দাম বাড়লে ট্রাক, জাহাজ এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার পরিচালন ব্যয় বাড়ে। সেই বাড়তি ব্যয় শেষ পর্যন্ত পণ্যের দামে যোগ হয়। অর্থাৎ জ্বালানির বাজারে শুরু হওয়া চাপ ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে পুরো অর্থনীতিতে।
এ কারণে ডিজেলের বর্তমান মূল্যবৃদ্ধিকে শুধু জ্বালানির বাজারের সমস্যা হিসেবে দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। তাঁদের আশঙ্কা, সরবরাহে বড় ধরনের কোনো ব্যাঘাত তৈরি হলে জ্বালানির দাম আরও বাড়তে পারে। তাতে পরিবহন ব্যয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দামেও নতুন করে চাপ তৈরি হবে।
বিশ্ব অর্থনীতি যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, তখন ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধি সেই প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সরবরাহ ব্যবস্থায় জ্বালানির ওপর নির্ভরতা বেশি হওয়ায় এর প্রভাব এক দেশ থেকে অন্য দেশেও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
মতামত (0)