জুলাইয়ের বিজয় জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: ডা. শফিকুর রহমান

জুলাইয়ের বিজয় জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: ডা. শফিকুর রহমান
জুলাইয়ের বিজয় জনগণের, কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়: ডা. শফিকুর রহমান
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ের বিজয় কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়, এটি জনগণের। তিনি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান মন্তব্য করেছেন, জুলাইয়ের বিজয় জনগণের, এটি কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের ৩১ জুলাইকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেদিন সরকার জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়, যা পরে ১ আগস্ট কার্যকর হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণের প্রতি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, তাদের আহ্বানের মাত্র তিন দিনের মাথায় সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। ১ আগস্ট জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হলেও ৫ আগস্ট তারা রান্না করা খাবারও খেতে পারেনি। ডা. শফিকুর রহমান এটিকে আল্লাহর ফয়সালা হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, কোনো শক্তিই তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে টিকে থাকতে পারে না।

আন্দোলনের সময় একদিকে সশস্ত্র সরকারি বাহিনী ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা ছিল, অন্যদিকে নিরস্ত্র মানুষ ঈমান ও দেশপ্রেমের স্লোগান নিয়ে রাজপথে নেমেছিল বলে তিনি জানান। আল্লাহ সেই ঈমান ও ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো মানুষদের বিজয় দিয়েছেন। মানুষ সেদিন আবাবিল পাখির মতো সাহায্য চেয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ১,৪০০ শহীদের পেশাগত পরিচয় বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সর্বাধিক শহীদ শ্রমিক সমাজের। এরপর ছাত্র এবং তারপর সাধারণ মানুষের অবস্থান ছিল। শ্রমিকরা কোনো কোটা পাওয়ার জন্য আন্দোলন করেননি, তারা বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন এবং সম্মানজনকভাবে বাঁচতে চেয়েছিলেন।

চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি এক মন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করেন, যেখানে বলা হয় ‘সমঝোতার মধ্যে নিলে চাঁদা বলা যাবে না’। এই ধরনের বক্তব্য চাঁদাবাজিকে বৈধতা দেওয়ার শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। একজন হুইপের বক্তব্য উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে কেউ এসে দেশ চালালেও চাঁদাবাজি বন্ধ করা যাবে না’; ডা. শফিকুর রহমানের মতে, এমন বক্তব্য চাঁদাবাজির একটি বৈধ কাঠামো দাঁড় করানোর সমান।

প্রায় দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে বাস্তবে বাসস্ট্যান্ড, ট্রাকস্ট্যান্ড, সিএনজি স্ট্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির মাধ্যমে যে অবৈধ উপার্জনের ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, সেটাকেই যেন চাকরি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জনগণ এমন চাকরি চায় না এবং এই চাঁদাবাজিকে ঘৃণা করে বলে তিনি জানান।

সরকারের দুর্নীতি ও ব্যর্থতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকারের একজন নেতা নিজেই স্বীকার করেছেন যে গত পাঁচ মাসে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি এবং দুর্নীতি বেড়েছে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, যদি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সবকিছু পরিচালিত হয়, তাহলে দুর্নীতিবাজরা তাঁর আশপাশে কীভাবে অবস্থান করে এবং দুর্নীতি বন্ধ হয় না কেন। যখন নিজেরাই ব্যর্থতার কথা স্বীকার করছেন, তখন ক্ষমতায় থাকার নৈতিক অধিকার কোথায়, প্রশ্ন তোলেন তিনি।

বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা দাবির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এসব দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন করতে হওয়াই দুঃখজনক। এগুলো শ্রমিকদের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত ছিল। অথচ অধিকার প্রতিষ্ঠার বদলে আজ অধিকার নিয়েই টানাটানি চলছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, চাঁদাবাজদের হাতে পরিবহন শ্রমিকরা সর্বত্র নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর, হামলা, এমনকি যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটছে। এই অপকর্ম যারা করছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জুলাইয়ের দাবিদার কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠী নয়; জুলাইয়ের দাবিদার বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ। কেউ এককভাবে এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না। শহীদরা কোনো দলের সম্পত্তি নন, তারা জাতির সম্পদ।

জুলাই শহীদ ও আহত পরিবারের যথাযথ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে ব্যর্থ হয়েছে। জুলাই শহীদ ও জুলাই-সন্তানদের মর্যাদা ও প্রাপ্য রাষ্ট্রকে নিশ্চিত করতে হবে। শহীদ পরিবারকে সম্মান দিলে ভবিষ্যতেও এই দেশের মাটিতে সাহসী সন্তান জন্ম নেবে।

তিনি বলেন, তারা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করবেন না। বাংলাদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়কে নিজেদের গণতান্ত্রিক দল দাবি করলে সেই রায় অবশ্যই মেনে নিতে হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...