কলেজ পোশাক পরে অজানায় দুই শিক্ষার্থী, ট্রেন দুর্ঘটনায় বদলে গেল গন্তব্য
সম্পাদক৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
কলেজ পোশাক পরে অজানায় দুই শিক্ষার্থী, ট্রেন দুর্ঘটনায় বদলে গেল গন্তব্য
পরিবারের অমতে অজানা পথে পা বাড়িয়েছিল একাদশ শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী। গতকাল সোমবার পাবনার মাঝগ্রাম স্টেশনে ট্রেন দুর্ঘটনায় তারা আহত হয় এবং এরপর বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নেয়।
একাদশ শ্রেণির দুই কলেজ শিক্ষার্থী পরিবারের আপত্তির কারণে অজানা গন্তব্যে পা বাড়িয়েছিল। তাদের গায়ে ছিল কলেজের সাদা পোশাক। গতকাল সোমবার পাবনার মাঝগ্রাম রেলস্টেশনে এক দুর্ঘটনায় তারা আহত হয়। এই দুর্ঘটনার পর তারা বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ছেলেটির বাড়ি উত্তরাঞ্চলে এবং মেয়েটির বাড়ি দক্ষিণাঞ্চলে হলেও দুজনের পরিবারই ঢাকায় থাকে। একই কলেজে পড়ার সুবাদে তাদের মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ার কথা চিঠিতে লিখে সকালে বাড়ি ছাড়ে মেয়েটি। তারা জয়পুরহাটে ছেলেটির দাদার বাড়িতে গিয়ে বিয়ে করার পরিকল্পনা করেছিল।
অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে তারা ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেনে ওঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী এই ট্রেনটি চিনতে না পারায় তারা ভুল করে তাতে চড়ে বসে। পাবনায় পৌঁছানোর পর তারা জানতে পারে, ট্রেনটি রাজশাহীর দিকে যাচ্ছে।
রাজশাহীর দিকে ট্রেন যাচ্ছে জানার পর তারা মাঝগ্রাম স্টেশনে নামার সিদ্ধান্ত নেয়। গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে মাঝগ্রাম স্টেশনে ট্রেন থামলে ছেলেটি প্রথমে নেমে যায়। এরপর মেয়েটি নামার সময় তার পা প্ল্যাটফর্মে পড়ার আগেই ট্রেনটি চলতে শুরু করে।
মেয়েটি ট্রেন ও প্ল্যাটফর্মের মাঝামাঝি জায়গায় ঢুকে যায়। ঠিক সেই মুহূর্তে ছেলেটি তার হাত ধরে ফেলে এবং তাকে টেনে তোলে। অল্পের জন্য মেয়েটি প্রাণে বেঁচে যায়। এরপর ট্রেনটি থামলে আহত মেয়েটিকে আবার সেই বনলতা এক্সপ্রেসেই রাজশাহী নিয়ে আসা হয়।
গতকাল রাত আটটার দিকে মেয়েটিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের অর্থোপেডিকস সার্জারি বিভাগের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ট্রলিতে তখনও মেয়েটির পরনে ছিল কলেজের সাদা পোশাক। মাথায় ব্যান্ডেজ এবং হাত থেকে রক্ত ঝরছিল, যা সাদা পোশাকের একাংশ লাল করে দেয়।
হাসপাতালের ব্যস্ততার মধ্যে কলেজের পোশাক পরা ছেলেটি নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল। সে একের পর এক মুঠোফোনে কল পাচ্ছিল এবং কী করবে তা বুঝে উঠতে পারছিল না। চিকিৎসক মেয়েটির হাতের এক্স-রে এবং মাথার সিটি স্ক্যান করার নির্দেশ দেন।
হাসপাতালের ভেতরেই এসব পরীক্ষা করার ব্যবস্থা থাকলেও রোগী ধরার দালালেরা তাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। পরে হাসপাতালেই পরীক্ষা করার ব্যবস্থা রয়েছে জানানো হলে মেয়েটিকে সেখানে নেওয়া হয়।
এক্স-রে ও সিটি স্ক্যানের রিপোর্ট দেখার পর চিকিৎসক জানান, মেয়েটির বাঁ হাত ভেঙে গেছে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। রাজশাহীতে তাদের কোনো আত্মীয়স্বজন না থাকায় ছেলেটি মেয়েটিকে নিয়ে ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বনলতা এক্সপ্রেসের যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা অনিক আলী দুর্ঘটনার পর ছেলে ও মেয়েটির পাশে দাঁড়ান। তিনি জানান, তাদের সঙ্গে আর কেউ নেই বুঝতে পেরে তিনি সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসেন। অনিক আলী আরও বলেন, ঢাকার কমলাপুরে গিয়ে ওই দুজন ট্রেন চিনতে পারেনি। পাবনায় আসার পর তারা জানতে পারে, ট্রেনটি রাজশাহীর দিকে যাচ্ছে এবং তখনই তারা নামার সিদ্ধান্ত নেয়।
মতামত (0)