খেলাধুলা

কোয়াব সভাপতির কঠিন বছর: হুমকি ও ক্রিকেটারদের জন্য লড়াই

কোয়াব সভাপতির কঠিন বছর: হুমকি ও ক্রিকেটারদের জন্য লড়াই
কোয়াব সভাপতির কঠিন বছর: হুমকি ও ক্রিকেটারদের জন্য লড়াই
ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন গত এক বছরের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তিনি প্রাণনাশের হুমকি ও আর্থিক সংকট সত্ত্বেও খেলোয়াড়দের স্বার্থে কাজ করার কথা তুলে ধরেছেন।

রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিসিবি কার্যালয়ে ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন একটি একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। কোয়াবকে অনেকেই ‘বিসিবির ছায়া’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন বিসিবি সভাপতির ঘনিষ্ঠ হিসেবে সমালোচিত হন। এই সাক্ষাৎকারে তিনি এসব অভিযোগের জবাব দিয়েছেন।

কোয়াবের নতুন কমিটি গত ৪ সেপ্টেম্বর এক বছর পূর্ণ করেছে। সভাপতি হিসেবে এই সময়টা অত্যন্ত কঠিন ছিল বলে মোহাম্মদ মিঠুন জানান। তিনি বলেন, এই সময়ে তাকে অনেক ধরনের হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে।

সংগঠনটি খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা করবে এবং তাদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলবে, যা অনেকের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। কমিটি আসার পর তারা প্রতিটি বিষয়ে সক্রিয়ভাবে কথা বলায় অনেকে অবাক হয়েছেন। তাকে এমনকি ‘এত কথা বল কেন?’ এমন কথাও শুনতে হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কোয়াবের নির্বাচনের আগে বিভিন্ন জায়গা থেকে ফোন আসা শুরু হয় এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলার কারণে হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে বিপিএলের সময় একটি নির্দিষ্ট ঘটনা নিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। মিঠুন জানান, তাকে বলা হয়েছিল, বেশি কথা বললে তার অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।

বেশির ভাগ হুমকি অচেনা নম্বর থেকে এসেছে বলে মোহাম্মদ মিঠুন উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রমাণ ছাড়া কারো নাম বলা তার পক্ষে কঠিন, যদিও তিনি অনুমান করতে পারেন কারা এসবের পেছনে থাকতে পারে।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কোয়াব এবং বর্তমান কমিটি বারবার আলোচনায় এসেছে, যার বেশিরভাগই ছিল নেতিবাচক কারণে। মোহাম্মদ মিঠুন মনে করেন, তাদের নির্বাচনের সময় দেশের মধ্যে একটি অস্থিরতা ছিল, যা এই পরিস্থিতির কারণ। তখন এমন একটি অবস্থা ছিল যে, যার পক্ষে গেছেন, সে খুশি হয়েছে এবং যার বিপক্ষে গেছেন, সে অখুশি হয়েছে।

তবে কোয়াবের কাজ খেলোয়াড়কেন্দ্রিক এবং তারা ক্রিকেটারদের মর্যাদার জন্য লড়াই করেছেন বলে মিঠুন জানান। দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোয়াবের ফান্ডে কোনো টাকা ছিল না। নির্বাচনের আগ থেকেই ফান্ড একদম ‘জিরো’ ছিল।

তারা ১৬ ডিসেম্বর একটি ফান্ড রাইজিং ম্যাচ খেলেন। প্রক্রিয়াগত কারণে কোয়াবের ব্যাংক হিসাবে তারা প্রবেশাধিকার পেয়েছেন মাত্র কিছুদিন আগে। এর আগে তারা নিজেদের টাকা বা মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে কার্যক্রম চালিয়েছেন।

কোয়াব ঢাকায় একজন সাবেক খেলোয়াড় এবং সিলেটে একজন গ্রাউন্ডসম্যানের চিকিৎসায় সহায়তা করেছে। এছাড়াও, একজন সাবেক ক্রিকেটারের একসঙ্গে পাঁচটি সন্তান হয়েছিল, যেখানে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়। বাচ্চাদের বাসায় নিয়ে যাওয়া পর্যন্ত পুরো খরচ বিভিন্ন জায়গা থেকে কোয়াব ম্যানেজ করেছে।

এখনো অনেক সাবেক ক্রিকেটারের পাশে কোয়াব আছে। খেলোয়াড়দের অধিকার আদায় ও মর্যাদা রক্ষার্থেও কোয়াব কাজ করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, বোর্ডের দায়িত্বশীল জায়গা থেকে ক্রিকেটারদের প্রকাশ্যে গালিগালাজও করা হয়েছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কোয়াব প্রতিবাদে বিপিএলে ম্যাচ বয়কট করেছে, যা সবাই দেখেছে। তবে এর আগে তারা একটি সংবাদ সম্মেলন করে খেলোয়াড়দের সম্মান দেখিয়ে কথা বলার আহ্বান জানিয়েছিল। তারা দেখাতে চেয়েছেন যে তাদেরও কিছু করার আছে।

খেলোয়াড়েরা কেউই এমন আচরণ মেনে নিতে পারেননি। তখন ঘরোয়া ক্রিকেট ঠিকভাবে হচ্ছিল না এবং বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি, সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা ছিল। এই হতাশার প্রতিফলন একসঙ্গে ঘটেছে বলে মিঠুন জানান।

যখন প্রথম বিভাগের ক্লাবগুলো খেলতে রাজি হচ্ছিল না, তখন মোহাম্মদ মিঠুন তখনকার সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে বিকল্প জানতে চেয়েছিলেন। তখন তিনি একটি এসএমএস পান, যেখানে লেখা ছিল, ‘এসব মাইক্রো ইস্যু নিয়ে কথা বলার সময় আমার নেই, আমার অনেক কাজ।’ মিঠুন এই বিষয়টিকে ‘মাইক্রো ইস্যু’ মনে করেননি।

এই এক বছরে কোয়াবের সবচেয়ে বড় সফলতা হলো প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটারদের বেতন, ম্যাচ ফি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে পারা। বর্তমানে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের প্রায় ১৫০ জন ক্রিকেটার সব ম্যাচ খেললে শুধু বোর্ড-আয়োজিত খেলা থেকেই বছরে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মতো আয় করতে পারবেন। কোয়াব ক্রিকেটারদের এই আর্থিক নিশ্চয়তা দিতে চেয়েছিল।

বাংলাদেশ দল গত বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলেনি, সেখানে কোয়াবের ভূমিকা প্রসঙ্গে মোহাম্মদ মিঠুন বলেন, তারা সামগ্রিকভাবে সব খেলোয়াড়ের মতামত নিয়েছিলেন। ওই সময় দেশের বিষয়টাই সবার আগে এসেছিল। তারা দেশের বাইরে নন এবং দেশের বিপক্ষে কখনোই যাবেন না। তবে ক্রিকেটের কথা চিন্তা করে তারা চেয়েছিলেন, যদি সম্ভব হয়, বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপটা মিস না করে। তারা সরাসরি বলতে পারেননি যে তারা খেলতে যাবেন বা খেলতে যেতে চান।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...