কর্মীরা সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি নিয়ে চিন্তিত, চেয়ারম্যানকে চিঠি

কর্মীরা সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি নিয়ে চিন্তিত, চেয়ারম্যানকে চিঠি
কর্মীরা সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি নিয়ে চিন্তিত, চেয়ারম্যানকে চিঠি
ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র কর্মীদের একাংশ সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চেয়ারম্যান ভি নারায়ণনকে চিঠি দিয়েছেন। তাঁরা ভবিষ্যৎ ভূমিকা ও কর্মসংস্থান নিয়ে স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন, যেখানে ১২০টি প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO-র কর্মীদের একাংশ চেয়ারম্যান তথা মহাকাশ বিভাগের সচিব ভি নারায়ণনকে একটি চিঠি লিখেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থার প্রবেশ সহজ করার নীতি নিয়ে তাঁদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কর্মীরা তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন এবং বেসরকারিকরণ প্রক্রিয়া কোথায় গিয়ে থামবে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা চেয়েছেন।

গত ৪ সেপ্টেম্বর GSLV F-17/EOS-05 স্যাটেলাইটের সফল উৎক্ষেপণের পরেই ISRO-র কর্মীদের একাংশ এই চিঠি দেন। তাঁরা সরকারের বেসরকারিকরণ নীতি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট জবাব চেয়েছেন। ISRO-র অন্দরে এই মুহূর্তে একটি গভীর অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে রকেট তৈরির দায়িত্ব বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ায় কর্মীদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আগামী দিনে রকেট, স্যাটেলাইট এবং মহাকাশ পরিকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ISRO-র মূল ভূমিকা কী থাকবে। এই বিষয়ে সরকারি অবস্থানের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ইতিমধ্যেই ISRO থেকে দলে দলে কর্মী বেরিয়ে আসতে শুরু করেছেন বলে জানা যাচ্ছে। স্মল লঞ্চ ভেহিকল তৈরির দায়িত্ব বাইরের সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। আগামী দিনে পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল তৈরির বরাতও বেসরকারি সংস্থাকে দেওয়া হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজেশন সেন্টারের চেয়ারম্যান পবনকুমার গোয়েঙ্কা সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, "একটা সময় ISRO আর লঞ্চ ভেহিকল তৈরি করবে না। বেসরকারি এবং রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থাগুলি ওই কাজ করবে।" এই ধরনের মন্তব্য কর্মীদের মধ্যে আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পাঁচ পাতার ওই চিঠিতে ISRO-র কর্মীরা উল্লেখ করেছেন, ১২০টি প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকরা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে নানা মন্তব্য করলেও সরকারিভাবে কর্মীদের কাছে কোনো স্পষ্ট তথ্য জানানো হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি কর্মীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা তৈরি করেছে।

কর্মীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দেওয়ায় তাঁদের পরিবারের লোকজনও চিন্তিত। এই উদ্বেগ গবেষণা থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্মেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে চিঠিতে জানানো হয়েছে। কর্মীদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে।

কেন্দ্র ২০২০ সাল থেকেই মহাকাশ গবেষণায় বেসরকারি সংস্থাগুলিকে জায়গা করে দিতে সচেষ্ট। সরকারের নীতি হলো, ISRO গবেষণামূলক কাজকর্ম এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তি তৈরিতে নিযুক্ত থাকবে। নকশা তৈরি, উৎপাদন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত কাজকর্ম বেসরকারি সংস্থাগুলির হাতে তুলে দেওয়া হতে পারে।

কিন্তু ISRO-র কর্মীদের যুক্তি ভিন্ন। তাঁদের মতে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে বেসরকারি সংস্থাকে নিযুক্ত করা যেতেই পারে। তবে ISRO-র নিজস্ব মূল কাজকর্ম বাইরের সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া সঠিক নয়। তাঁরা এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই চিঠিতে ISRO-র বিভিন্ন বিভাগের কর্মী ও আধিকারিকদের সই রয়েছে। সইকারীদের মধ্যে ISRO Staff Association, ISAC Employees Association, ISRO Staff Association-LPSC, ISRO Staff Association-BBU, NRSA Employees Union, Space Employees Association-BBU, ISRO Staff Association-IPRC, এবং SAC Employees Welfare Association-এর কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত। এই সম্মিলিত পদক্ষেপ ISRO কর্মীদের গভীর উদ্বেগের প্রতিফলন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...