লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত শুভ দাসের মরদেহ ৩ মাস ২৫ দিন পর দেশে ফিরেছে। তার পরিবার সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান পেয়েছে।
লেবাননে নিহত তরুণ শুভ দাসের মরদেহ ৩ মাস ২৫ দিন পর গতকাল রোববার সকালে দেশে ফিরেছে। কফিনবন্দি হয়ে তার নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছালে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের কান্নায় এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।
শুভ দাস (২৩) কলারোয়া উপজেলার শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাস ও শিখা দাসের মেজো ছেলে। চলতি বছরের ১২ মে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত তিন প্রবাসীর মধ্যে তিনি ছিলেন।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের জেবদিন এলাকায় একটি রুটি বহনকারী গাড়িতে ওই হামলা চালানো হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন বাংলাদেশি প্রবাসীর প্রাণহানি ঘটে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শফিকুল ইসলাম, আশাশুনি উপজেলার নাহিদুল ইসলাম নাহিদ এবং কলারোয়ার শুভ দাস হামলায় নিহত হন। শফিকুল ইসলাম ও নাহিদের মরদেহ গত ২৭ জুন দেশে আনা হয়েছিল।
নানা জটিলতার কারণে শুভ দাসের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রায় চার মাস সময় লেগে যায়। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে মুখে হাসি ফোটাতে তিনি লেবাননে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
নিহত শুভর বাবা সুরঞ্জন দাস জানান, ছেলেকে লেবাননে পাঠানোর জন্য পরিবার জমি ও গবাদিপশু বিক্রি করে এবং ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করেছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের মর্মান্তিক ড্রোন হামলা তাদের ভাগ্য বদলের সেই স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের খুলনাস্থ ওয়েজ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার বোর্ডের সহকারী পরিচালক মঈন আহমেদ জানান, মরদেহ সৎকারের জন্য ৩৫ হাজার টাকা এবং যুদ্ধে মারা যাওয়ার কারণে বিশেষ অনুদান হিসেবে ৫০ হাজার টাকা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আর্থিক অনুদান হিসেবে ৩ লাখ টাকা এবং বীমা বাবদ আরও ১০ লাখ টাকা তার পরিবার পাবে।
মতামত (0)