মালয়েশিয়ার কোতারায়া এলাকার বাংলাদেশী মার্কেটে এক অভিযানে মোট ৪৭২ জন অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে, যার মধ্যে ৩৬৪ জনই বাংলাদেশের নাগরিক। লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা ও অবৈধ কাগজপত্রবিহীনদের শনাক্ত করতে এই অভিযান চালানো হয়।
মালয়েশিয়ার কোতারায়া এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশী মার্কেটে একটি ব্যাপক অভিযান চালানো হয়েছে। এই অভিযানে মোট ৪৭২ জন অভিবাসীকে আটক করেছে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। আটককৃতদের মধ্যে রেকর্ড সংখ্যক ৩৬৪ জনই বাংলাদেশের নাগরিক।
আজ রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, এই ঝটিকা অভিযান সকাল ১১টায় শুরু হয়। ছুটির এই দিনে পরিচালিত মেগা অভিযানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার মোট ৩৩৭ জন সদস্য অংশ নেন। অভিযানটি সমন্বিতভাবে মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়।
এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা পরিচালনাকারী এবং বৈধ ভিসা পারমিট বা কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের চিহ্নিত করা। প্রায় দুই হাজার ৫০০ জন বিদেশী নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে অবৈধ ব্যবসা এবং অননুমোদিত অভিবাসন বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে।
আটককৃত ৪৭২ জন অভিবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ছিলেন বাংলাদেশের নাগরিক, যাদের সংখ্যা ৩৬৪ জন। এছাড়া মিয়ানমারের ৫৭ জন, ফিলিপিন্সের নয়জন এবং নেপাল, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের সাতজন করে নাগরিককে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ভারতের ছয়জন, চীনের তিনজন এবং জিম্বাবুয়ে ও সৌদি আরবের একজন করে নাগরিকও রয়েছেন।
আটককৃত ব্যক্তিদের বয়স ১৮ থেকে ৬২ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে ৪৩৯ জন পুরুষ এবং ৩৩ জন নারী রয়েছেন। বৈধ পরিচয়পত্র না থাকা, ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া এবং ভিসার শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়ার জন্য বুকিত জলিল ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে জানা গেছে, যাচাই করা অধিকাংশ বিদেশীর কাছে বৈধ কাগজপত্র ছিল। তবে, যেসব ব্যক্তি নির্দিষ্ট আইন লঙ্ঘন করেছেন, তাদেরকেই মূলত আটক করা হয়েছে। অবৈধ ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
কুয়ালালামপুর অভিবাসন বিভাগের পরিচালক হামশাহ ইনজাউ এই অভিযান সম্পর্কে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি সকল অবৈধ অভিবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশীদের, অবিলম্বে ‘মাইগ্র্যান্ট রিপ্যাট্রিয়েশন প্রোগ্রাম’ (পিআরএম)-এর আওতায় নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। হামশাহ ইনজাউ এই বিষয়ে কঠোর সতর্কতাও জারি করেছেন।
মতামত (0)