দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে আধুনিক কারখানা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এমইপি গ্রুপ চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আধুনিক কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই কারখানায় প্রায় ২০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে। এটি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে নির্মিত হবে।
নতুন এই কারখানাটি ১০ একর জমির ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখানে লাইটিংস, সুইচ-সকেট এবং সার্কিট ব্রেকার তৈরি হবে। এছাড়াও ফ্যান ও কেবলসসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে।
এই বিনিয়োগের তথ্য আজ রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জানানো হয়। ‘এমইপি অ্যাক্সেসরিজ সুপার অফার, ২০২৬ গ্র্যান্ড এচিভার সেলিব্রেশন’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ৮০ জন বিজয়ীর হাতে ৭৮টি মোটরসাইকেলের চাবি ও দুটি ফ্রিজ তুলে দেওয়া হয়। এসময় এমইপি পণ্যের একটি প্রদর্শনী এবং ব্যবসায়িক মতবিনিময়ও অনুষ্ঠিত হয়।
ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) প্রশাসক মো. ফজলুল হক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, এমইপি বাংলাদেশের অন্যতম পুরোনো বৈদ্যুতিক পণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান।
প্রশাসক মো. ফজলুল হক আরও উল্লেখ করেন, জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানটির এই নতুন বিনিয়োগ এবং আধুনিক কারখানা উন্নত মানের ও বৈচিত্র্যময় পণ্য উৎপাদনে সহায়তা করবে। তিনি জানান, এই উদ্যোগ শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান এবং দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।
এমইপি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, নতুন কারখানাটি কেবল উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর একটি প্রকল্প নয়। এটি পণ্যের মান, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বাজার সম্প্রসারণের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।
ডা. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার আরও জানান, খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে দেশের বৈদ্যুতিক পণ্য খাতে এমইপির অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, নতুন কারখানার মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা, পণ্যের গুণগত মান ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থান এবং দেশীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এমইপি গ্রুপের পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার বলেন, ৮০ জন বিজয়ীর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়ার মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতা, পরিবেশক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নতুন কারখানার উৎপাদন বাজারে আসার আগে অংশীদার ও গ্রাহকদের সঙ্গে নিয়ে বাজার সম্প্রসারণ এবং একটি শক্তিশালী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাই এখন লক্ষ্য।
প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘এমইপি অ্যাক্সেসরিজ’-এর বিশেষ অফার আগামী অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত চলবে। অনুষ্ঠানে এমইপি গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, পরিবেশক, খুচরা বিক্রেতা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত (0)