সৌদি আরবের মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করা হলেও দ্রুত তা প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ১৩ জন আহত হন।
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা, জেদ্দা ও তাইফ গভর্নরেটে সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় সাময়িক সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। দেশটির বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ এই সতর্কতা জারি করে। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই এসব সতর্কতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ শুরুর পর মক্কায় এই প্রথমবারের মতো এমন সতর্কতা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর সৌদি আরবজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এই সতর্কতা জারির এক দিন আগে ইয়েমেন থেকে সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। গতকাল সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চালানো এসব হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন আহত হন। রিয়াদ-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, এই হামলাগুলো সৌদির খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফকে লক্ষ্য করে চালানো হয়।
সৌদি সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জারি করা সতর্কতাগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যেই তুলে নেওয়া হয়। তবে ঠিক কী ধরনের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এসব সতর্কতা জারি করা হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জাতীয় জরুরি সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই সতর্কবার্তাগুলো পাঠানো হয়েছিল।
সিভিল ডিফেন্স বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। সতর্কবার্তা পাওয়ার পর বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলা হয়। সম্ভব হলে ভবনের ভেতরে জানালা থেকে দূরে কোনো অভ্যন্তরীণ কক্ষে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
বিপদ কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সেখানেই থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ ছাড়া খোলা জায়গা, জানালা, বারান্দা ও ছাদ থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছিল। সতর্কবার্তা পাওয়ার সময় যারা বাইরে ছিলেন, তাদের দ্রুত কাছের কোনো ভবনে ঢুকে আশ্রয় নিতে অথবা শক্ত কোনো স্থাপনার আড়ালে অবস্থান করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
গাড়িচালকদেরও সতর্ক করেছিল সিভিল ডিফেন্স। জরুরি সতর্কবার্তা পাওয়ার পর সেতু ও উঁচু ভবনের কাছ থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে জনসমাগম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার পাশাপাশি কেবল সরকারি ও নির্ভরযোগ্য চ্যানেলের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।
সাম্প্রতিক হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা সতর্কতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব আজ হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেবে তারা।
হুথি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, খামিস মুসাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। এসব মিসাইল বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে এবং অস্ত্রভাণ্ডারকে লক্ষ্যবস্তু করে।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের হামলার জবাবে তারা ৫০টির বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে। গত পাঁচদিনে সৌদি আরব হুথিদের লক্ষ্য করে তিনশরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে হুথিরা জানিয়েছে। সৌদি যদি হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি করা হবে বলে ইয়েমেনের বিদ্রোহীরা হুমকি দিয়েছে।
গতকাল সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে হুথিরা বলেছে, সৌদির এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এবং ইউরোফাইটার টাইফুন বিমানসহ অন্যান্য যুদ্ধবিমান দিয়ে এসব হামলা চালিয়েছে তাদের বিমানবাহিনী। গত দুই সপ্তাহ ধরে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ণমাত্রার লড়াই শুরুর শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছর জুলাইয়ে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইয়েমেনের হুথিদের আবারো লড়াই শুরু হয়। হুথিরা রিয়াদের বিরুদ্ধে সমুদ্র অবরোধ ঘোষণা করে এবং লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে। গত সপ্তাহে লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয় হুথিরা।
২০১৪ সালে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এ সময় হুথিরা রাজধানী সানাসহ বিস্তৃত অঞ্চল দখল করে। এরপর ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট হুথিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হামলা চালানো শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের নেতৃত্বে সৌদির সঙ্গে তাদের যুদ্ধবিরতি হয়, তবে সম্প্রতি তাদের মধ্যকার যুদ্ধবিরতিটি অকার্যকর হয়ে গেছে।
মতামত (0)