মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে রাখার পক্ষে রাশিয়া

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে রাখার পক্ষে রাশিয়া
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে রাখার পক্ষে রাশিয়া
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরানকে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, তেহরানের এই চুক্তিতে অংশগ্রহণ আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে। তুরস্কের একটি বার্তা সংস্থা এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

লাভরভ গতকাল সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় অবস্থিত স্টেট ইনস্টিটিউট অফ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে একটি বৈঠকে এসব কথা বলেন। এই চুক্তিটি গত ৭ আগস্ট (২০২৬) সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যদি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হয়, তবে অন্য দেশগুলো যৌথভাবে প্রতিরক্ষা সহায়তা প্রদান করবে। লাভরভ তার বক্তব্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি জানান, দুই দশকেরও বেশি সময় আগে রাশিয়া একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল। সেই প্রস্তাবে ইরানসহ উপসাগরীয় এবং আরব দেশগুলোকে একত্রিত হয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে একটি কাঠামো তৈরির বিষয় বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছিল।

লাভরভ স্বীকার করেন যে, এই দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জটিল ছিল। তা সত্ত্বেও রাশিয়া মনে করেছিল যে, তারা এই দেশগুলোকে বৈঠকে বসতে, তাদের পারস্পরিক অভিযোগ নিয়ে আলোচনা করতে এবং আস্থা তৈরির কিছু পদক্ষেপে একমত হতে সহায়তা করতে পারবে।

তবে, লাভরভ উল্লেখ করেন যে, গত ফেব্রুয়ারিতে (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান চালানোর পর আঞ্চলিক পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। এই পরিবর্তন মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

মক্কা চুক্তি প্রসঙ্গে লাভরভ আরও বলেন, চুক্তির সমর্থকেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরের দেশগুলোর জন্যও এর সদস্যপদ উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক, যা চুক্তির ভবিষ্যৎ বিস্তারের সম্ভাবনা তৈরি করে।

তিনি মনে করেন, এই ধরনের একটি নিরাপত্তা কাঠামোতে ইরানকে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো মস্কোর প্রস্তাবিত নিরাপত্তা কাঠামো বাস্তবায়নের দিকে ‘সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ’ হতে পারে। এই উদ্যোগ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য সহায়ক হবে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...