মুরগির পেটের ডিম: কখন খাওয়া নিরাপদ, কখন নয়

মুরগির পেটের ডিম: কখন খাওয়া নিরাপদ, কখন নয়
মুরগির পেটের ডিম: কখন খাওয়া নিরাপদ, কখন নয়
মুরগি কাটার সময় পেটে পাওয়া ডিমের স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসান। তিনি ডিমের সঠিক ব্যবহার, রান্নার নিয়ম এবং সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন।

মুরগি কাটার সময় কখনো কখনো সেটির পেটে এক বা একাধিক ডিম পাওয়া যায়। এই ধরনের ডিমের ব্যবহার নিয়ে মানুষের মধ্যে ভিন্ন মত প্রচলিত আছে। কেউ কেউ এগুলো রান্না করে খান, আবার অনেকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কায় ডিমগুলো ফেলে দেন।

কুমিল্লার ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. মেহেদী হাসান এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি মুরগির পেট থেকে পাওয়া ডিম খাওয়ার স্বাস্থ্যগত দিকগুলো সহজভাবে তুলে ধরেছেন।

ডা. হাসান জানান, মুরগির পেটের ডিম যদি খোলস বা পাতলা আবরণের ভেতরে অক্ষত অবস্থায় থাকে, তাহলে তা খাওয়া যেতে পারে। এই ক্ষেত্রে ডিমটি বের করার সময় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

ডিমটি যেন ভেঙে না যায় বা মুরগির পেটের ময়লা এর গায়ে না লাগে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যদি ডিমটি বের করার সময় তার স্বাভাবিক আকৃতি নষ্ট হয়ে যায় বা ভেঙে যায়, তাহলে সেটি খাওয়া উচিত হবে না।

এছাড়াও, মুরগি কাটার সময় যদি পিত্তথলি বা নাড়িভুঁড়ি ফেটে বর্জ্য বেরিয়ে আসে এবং ডিমের গায়ে লেগে যায়, তবে তা থেকে জীবাণুর সংক্রমণ হতে পারে। এ ধরনের বর্জ্য দিয়ে ডিম যদি বেশি দূষিত হয়ে পড়ে, তবে স্বাভাবিক আকৃতি অক্ষুণ্ন থাকলেও সেটি পরিহার করা নিরাপদ। ডিম থেকে কোনো ধরনের দুর্গন্ধ এলেও সেটি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

ডিম পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। ডিমের খোলস বা পাতলা আবরণে দৃশ্যমান কোনো ময়লা থাকলে তা টিস্যু দিয়ে হালকাভাবে মুছে ফেলতে হবে, ধোয়ার প্রয়োজন নেই। ডিমটি ফ্রিজে সংরক্ষণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে রান্না করে ফেলাই ভালো।

রান্নার সময় ডিমটি খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। উচ্চ তাপমাত্রায় অল্প রান্না করলে ডিমের ভেতরের অংশ কাঁচা থেকে যেতে পারে। তাই মাঝারি আঁচে পর্যাপ্ত সময় ধরে রান্না করা উচিত, যাতে ডিমের ভেতরের অংশ পুরোপুরি জমাট বেঁধে যায়।

ডিম সেদ্ধ হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করতে একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। সেদ্ধ হয়ে গেছে মনে হলেও একটি ডিম তুলে নিয়ে আলাদা প্লেট বা বাটিতে রাখতে হবে। এরপর একটি চামচ বা ছুরি দিয়ে ডিমের মাঝখানের অংশ কেটে দেখতে হবে যে, তা নরম রয়ে গেছে কিনা।

যদি ডিমের ভেতরের অংশ নরম থাকে, তাহলে বুঝতে হবে ডিম ভালোভাবে সেদ্ধ হয়নি। সেক্ষেত্রে আরও সেদ্ধ করতে হবে এবং আবার একইভাবে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। রান্নার ধরন বুঝে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি বা তেল যোগ করা যেতে পারে, যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায়।

মুরগির পেট থেকে নিরাপদে বের করে নেওয়া ডিম যদি উপরোক্ত সব নিয়ম মেনে রান্না করা হয়, তবে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ। এই ধরনের ডিম যেকোনো বয়সী মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে, উল্লিখিত কোনো শর্তের ব্যত্যয় ঘটলে ডিমের মাধ্যমে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। বিশেষত সালমোনেলা নামক জীবাণু দ্বারা ফুড পয়জনিং হতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে।

সঠিক নিয়মে খাওয়া হলে মুরগির পেটে পাওয়া এই ডিম থেকে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এই ডিমে আমিষ, অতি প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২ সহ নানান পুষ্টি উপাদান বিদ্যমান থাকে।

কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক অবস্থার ক্ষেত্রে এই ডিম গ্রহণে বিধিনিষেধ থাকতে পারে। কোনো রোগের কারণে যাঁদের আমিষ বা আয়রন গ্রহণে বিধিনিষেধ রয়েছে, তাঁদের রোজকার নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি কোনো ডিমই খাওয়া উচিত নয়।

এছাড়াও, এই ডিমে বেশ উচ্চমাত্রায় কোলেস্টেরল থাকে। তাই যাঁদের রক্তে উচ্চ কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস বা হৃদ্‌রোগ রয়েছে, তাঁদের অতিরিক্ত কুসুম খাওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলা উচিত। যাঁদের এ ধরনের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই, তাঁদের জন্য এই বাড়তি ডিম পুষ্টির উৎস হতে পারে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...
মুরগির পেটের ডিম: স্বাস্থ্যঝুঁকি ও খাওয়ার নিয়ম | বাংলানিউজবিডিহাব