নাগোয়ায় ২০তম এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে শনিবার

নাগোয়ায় ২০তম এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে শনিবার
নাগোয়ায় ২০তম এশিয়ান গেমস শুরু হচ্ছে শনিবার
ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও পরিবহন সঙ্কটসহ বিভিন্ন সমালোচনার মধ্যেই আগামীকাল শনিবার জাপানের নাগোয়ায় পর্দা উঠছে ২০তম এশিয়ান গেমসের।

এশিয়ার বৃহত্তম ক্রীড়া আসর ২০তম এশিয়ান গেমস আগামীকাল শনিবার জাপানের নাগোয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। দীর্ঘ ৩২ বছর পর জাপান আবারও এশিয়ান গেমসের আয়োজক হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। আয়োজকরা এই সুযোগ সফলভাবে কাজে লাগাতে চায়।

নাগোয়ার মিজু হো পার্ক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরু হবে। এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনের এই মহাযজ্ঞকে ঘিরে মহাদেশের সেরা ক্রীড়াবিদদের মিলনমেলা বসে। এই আসর চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়।

তবে উদ্বোধনের আগেই আয়োজকরা ব্যবস্থাপনা, আবাসন ও পরিবহন নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিভিন্ন প্রশ্ন উঠেছে তাদের আয়োজনের মান নিয়ে। এই কারণে আয়োজকদের এখন মাঠের বাইরের চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

টোকিওতে এশিয়ান গেমস ঘিরে তেমন দৃশ্যমান উদ্দীপনা চোখে না পড়লেও নাগোয়ায় কিছুটা আমেজ মিলছে। তবে শহরের সব জায়গায় উৎসবের আবহ রয়েছে এমনটা বলার সুযোগ নেই।

আয়োজকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবাসন ব্যবস্থা। প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য কোনো ঐতিহ্যবাহী অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি করা হয়নি। এর পরিবর্তে বিভিন্ন হোটেল, অস্থায়ী কক্ষ এবং একটি ক্রুজশিপে তাদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া (ওসিএ) খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং গেমস শেষে অব্যবহৃত স্থাপনা এড়ানোর যুক্তি দিয়ে এই সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। কিন্তু কক্ষের সঙ্কীর্ণতা এবং ছোট বিছানা নিয়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে। এই আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক এখনো থামেনি।

হাজারো ক্রীড়াবিদকে আবাসন দেওয়ার জন্য একটি ইতালীয় ক্রুজ জাহাজ কোস্টা সেরেনা গত মঙ্গলবার জাপানে পৌঁছেছে। এটি গেমসের অন্যতম ভেন্যু নাগোয়ায় ভিড়েছে। এই ক্রুজ জাহাজে আবাসনের ব্যবস্থা নানা অব্যবস্থাপনার মধ্যেও বাড়তি আকর্ষণ কেড়েছে।

প্রায় ৪ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা এই জাহাজে থাকবেন। এই বিশাল জাহাজটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০০ মিটার এবং ওজন ১ লাখ টনের বেশি। এটিতে ১ হাজার ৫০০টি কেবিন রয়েছে।

আবাসন সমস্যার সাথে যুক্ত হয়েছে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নাগোয়া ও আশপাশের অঞ্চলে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে কয়েকশ’ ক্রীড়াবিদকে অস্থায়ী আবাসন থেকে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছিল।

গেমসের শুরুর দিকে টাইফুনের আশঙ্কা থাকায় আয়োজকেরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। তবে গত দুই দিনের ঝলমলে আবহাওয়া কিছুটা স্বস্তি এনেছে।

এবারের আয়োজন গেমসের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত এই প্রতিযোগিতা চলবে। ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ৪৩টি খেলায় অংশ নেবেন।

মোট ৪৬৯টি পদক ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এটি জাপানের তৃতীয় এশিয়ান গেমস আয়োজন। এর আগে জাপান ১৯৫৮ সালে টোকিও এবং ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় এই আসর আয়োজন করেছিল।

মূল আয়োজক শহর আইচি-নাগোয়ার বাইরেও কয়েকটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। টোকিওতে সাঁতার এবং ওসাকায় ফুটবল প্রতিযোগিতা আয়োজিত হবে।

প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো, টেকবল ও মিক্সড মার্শাল আর্টসের মতো নতুন ডিসিপ্লিন এবারের আসরে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করছে। ই-স্পোর্টসও এবারের গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। কয়েকটি খেলা ২০২৮ লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের যোগ্যতা অর্জনের পথ হিসেবেও কাজ করবে।

শিল্প ও নৌপরিবহন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নাগোয়া গেমস আয়োজনের জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জৌলুসের চেয়েও ক্রীড়াবিদদের স্বাচ্ছন্দ্য, নিরাপত্তা, সময়মতো পরিবহন এবং প্রতিযোগিতার নির্বিঘ্ন আয়োজনকে আয়োজকরা গুরুত্ব দিচ্ছে। মাঠের লড়াইয়ে মেতে ওঠাই এখন তাদের মূল লক্ষ্য।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...