অভিনেত্রী বাঁধন ইতালিতে হামলার শিকার: ‘আমি এর শেষ দেখব’
সম্পাদক৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ · 1 ঘণ্টা আগে
অভিনেত্রী বাঁধন ইতালিতে হামলার শিকার: ‘আমি এর শেষ দেখব’
ইতালির ভেনিসে সপরিবারে হামলার শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন এবং বলেছেন, ‘আমি এর শেষ দেখব।’
অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন ইতালির ভেনিসে সপরিবারে শারীরিক হামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি এই ঘটনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া কয়েকজন ব্যক্তিকে দায়ী করেছেন। একটি চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিতে তিনি তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইতালিতে অবস্থান করছিলেন এবং এই সময় ঘটনাটি ঘটে। ইতালির একটি পার্কে ঘোরাফেরার সময় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হন তারা।
হামলার সময় বাঁধনের ওপর শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়। তার গায়ে ডিম, পানি ও কোমল পানীয় নিক্ষেপ করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেছেন। এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, একপর্যায়ে তাকে 'জয় বাংলা' স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয়েছিল। নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজে একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তিনি এই হামলার অভিযোগ প্রকাশ্যে আনেন এবং ঘটনার বিবরণ তুলে ধরেন।
ঘটনার পর আজমেরী হক বাঁধন ভিডিও বার্তায় জানান যে, তিনি বর্তমানে নিরাপদে আছেন এবং এই হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে পরিচয় দিয়েছে যারা, তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।" তার মতে, এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিনেত্রী তার ছোট ভাইয়ের পরিবার এবং তাদের ছোট্ট সন্তানের ওপর হওয়া আক্রমণের বিষয়টি উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "আমার জন্য আমার ছোট ভাইয়ের পরিবার ও তার ছোট্ট সন্তান যেভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছে, এটা মেনে নেওয়ার মতো নয়।" এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিয়ে তিনি বিশেষভাবে চিন্তিত ছিলেন।
বাঁধন তার বক্তব্যে ন্যায়বিচারের জন্য দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "আমি থানায় কেস ফাইল করবো। এখানকার অনেকের সঙ্গে কথা হয়েছে।" তিনি আরও ঘোষণা দেন, "আমি কেস ফাইল না করে ভেনিস থেকে বাংলাদেশে আসছি না। এটার শেষ আমি দেখে ছাড়ব।" তার এই মন্তব্য ঘটনার শেষ দেখার অঙ্গীকারকে স্পষ্ট করে।
অভিনেত্রী আরও জানান, হামলার পরপরই স্থানীয় পুলিশ তাকে তাৎক্ষণিক সহযোগিতা করেছে। গত সোমবার রাতে পুলিশ তাকে একটি নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেয় এবং তার সুরক্ষার ব্যবস্থা করে। বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যাম্বাসেডর তাকে ফোন করে খোঁজখবর নিয়েছেন এবং দূতাবাসের পক্ষ থেকে মামলার কাজে সহায়তা করার জন্য লোক পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাঁধন নিশ্চিত করেন, "আমাদের কাছে সমস্ত এভিডেন্স আছে এবং আমরা এরই মধ্যে অনেকজনকে আইডেন্টিফাই করেছি।" তিনি বর্তমানে দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় থানায় আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন।
দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে অসংখ্য মানুষ এই ঘটনার পর তার খোঁজ নিয়েছেন এবং তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বাঁধন বলেন, "ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর অনেক মানুষ আমাকে ফোন করছেন, আমার খবর নেওয়ার চেষ্টা করছেন।" তিনি জানান, "আমি কেমন আছি, কোথায় আছি—সব জানতে চাইছেন। আলহামদুলিল্লাহ, আমি ঠিক আছি।" এই কঠিন সময়ে শুভাকাঙ্ক্ষীদের সমর্থন তাকে শক্তি যুগিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মতামত (0)