অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর ইতালিতে হামলার প্রতিবাদ, বিচার দাবি দৃশ্যমাধ্যম সমাজের

অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর ইতালিতে হামলার প্রতিবাদ, বিচার দাবি দৃশ্যমাধ্যম সমাজের
অভিনেত্রী বাঁধনের ওপর ইতালিতে হামলার প্রতিবাদ, বিচার দাবি দৃশ্যমাধ্যম সমাজের
ইতালিতে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানিয়েছে দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। সংগঠনটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও হামলাকারীদের বিচারের দাবি জানিয়েছে।

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর ইতালিতে হামলা ও শারীরিক হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের দৃশ্যমাধ্যম সমাজ। সংগঠনটি অবিলম্বে এই হামলার একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। একই সাথে, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে তারা।

গত মঙ্গলবার দৃশ্যমাধ্যম সমাজ একটি বিস্তারিত বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও দাবি উত্থাপন করে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, একজন শিল্পী তার রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ করতে পারেন। তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা উপভোগ করেন। গণ-আন্দোলনের নিপীড়িত মানুষের পক্ষে দাঁড়ানোও তার অধিকার।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজ আরও উল্লেখ করেছে যে, এসব কারণে কোনো শিল্পীকে আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু করা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত। এটি শুধু মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং মানবাধিকার এবং মানবিক মর্যাদারও পরিপন্থী একটি কাজ। এমন ঘটনা সমাজে ভীতি ও অস্থিরতা তৈরি করে।

বাঁধন অভিযোগ করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছেন যে, হামলাকারীদের কয়েকজন নিজেদের আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এবং ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই দৃশ্যমাধ্যম সমাজ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজের বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, অভিনেত্রী বাঁধন এবং তার সহশিল্পীরা বর্তমানে ইতালিতে অবস্থান করছেন। তারা ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে সেখানে গিয়েছেন। দেশের একজন শিল্পীর ওপর বিদেশে এমন হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদাকেও ক্ষুণ্ন করেছে বলে সংগঠনটি মনে করে।

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে দেশের অনেক শিল্পী অন্যায়, হত্যা, দমন ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নিজেদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করেছিলেন। তাদের মধ্যে অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনও ছিলেন একজন সক্রিয় ও সাহসী কণ্ঠস্বর। দৃশ্যমাধ্যম সমাজ তাদের বিবৃতিতে জোর দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, একজন শিল্পীর মতের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করার অধিকার সমাজের প্রতিটি সদস্যের আছে।

তবে, মতের অমিল থাকার কারণে তাকে অপমান করা, ভয় দেখানো বা তার ওপর শারীরিক হামলা করার অধিকার কারো নেই। এই ধরনের আচরণ সভ্য সমাজের জন্য অগ্রহণযোগ্য। রাজনৈতিক বিরোধিতার নামে সহিংসতা কোনো সমাধান হতে পারে না।

সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে আরও স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা কোনোভাবেই সহিংসতার লাইসেন্স হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে না। একজন নারী শিল্পীর ওপর হামলা এবং প্রকাশ্যে তাকে হেনস্তা করাকে তারা কোনো প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে দেখছে না। বরং এটিকে সরাসরি সহিংসতা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে, যা নিন্দনীয়।

দৃশ্যমাধ্যম সমাজ অভিনেত্রী বাঁধনের প্রতি তাদের পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করেছে। তারা দৃঢ়তার সাথে বলেছে, "শিল্পীর শরীর কোনো রাজনৈতিক প্রতিশোধের ক্ষেত্র নয়, শিল্পীর কণ্ঠ কোনো ভয়ের কাছে জিম্মি নয়।" সংগঠনটি আরও যোগ করেছে, "মতের বিরুদ্ধে মত আসুক, যুক্তির বিরুদ্ধে যুক্তি আসুক; কিন্তু সহিংসতা নয়।" তারা শান্তিপূর্ণ বিতর্কের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছে।

এই প্রতিবাদ বিবৃতিতে দেশের ১১২ জন সংস্কৃতি ও বুদ্ধিজীবী স্বাক্ষর করেছেন। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন আনু মুহাম্মদ, সলিমুল্লাহ খান, সায়ান, মুহাম্মদ কাইউম, আকরাম খান, মনোজ প্রামানিক, কৃষ্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায়, তাজনূভা জাবীন এবং আয়মান আসিবের মতো বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা সবাই এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...