অ্যাটলাস ইভি বাজারে আনলো চার নতুন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল

অ্যাটলাস ইভি বাজারে আনলো চার নতুন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল
অ্যাটলাস ইভি বাজারে আনলো চার নতুন বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল
অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড সম্প্রতি চারটি নতুন মডেলের বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল বাজারে এনেছে। জ্বালানি সংকট ও যানজটের মধ্যে ইভিগুলো দ্রুত যাতায়াতের সুবিধা দেবে।

শহরের ব্যস্ত জীবন এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দুই চাকার ইলেকট্রনিক ভেহিকেল (ইভি) জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। কর্মব্যস্ত নগরজীবনে অফিস বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সময়মতো পৌঁছাতে যানজট ও জ্বালানি সংগ্রহের চ্যালেঞ্জ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে ইভি দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর পাশাপাশি জ্বালানি খরচের চাপ কমাচ্ছে। সহজ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাচ্ছন্দ্যের কারণে এটি জ্যেষ্ঠ নাগরিক এবং নারীদের জন্যও সুবিধাজনক একটি যাতায়াত সমাধান।

বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (বিএসইসি) অধীন অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড (এবিএল) দেশে বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল সংযোজন ও উৎপাদনে উদ্যোগী হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত এই রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চীনের ঝেজিয়াং লুইউয়ান ইলেকট্রিক ভেহিকেল কোম্পানি লিমিটেডের সঙ্গে অরিজিনাল ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার (ওইএম) ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার চুক্তি করেছে। স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক বাহন খাতের বিকাশ এবং পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলা এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে অ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেড ৫ নভেম্বর ২০২৫ থেকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে অ্যাটলাস ইভি বাজারজাত করছে। সম্প্রতি তারা নতুন মডেলের চারটি অ্যাটলাস ইভি বাজারে এনেছে। মডেলগুলো হলো এস৭০, এস৮০, এস৯০-এ এবং এস১০০। ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন শহুরে চলাচল থেকে শুরু করে তুলনামূলক দীর্ঘ দূরত্বের যাতায়াতের প্রয়োজন অনুযায়ী এই মডেলগুলোতে ভিন্ন ভিন্ন মোটর, ব্যাটারি, রেঞ্জ ও অন্যান্য ফিচার রাখা হয়েছে।

অ্যাটলাস ইভির এস৭০ মডেলটিতে ৬০ ভোল্ট, ৬০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর এবং ৬০ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইভি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪৫ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত রেঞ্জ দিতে সক্ষম। এর ব্রেকিং সিস্টেমে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক ও সিরামিক ড্রাম ব্রেক রয়েছে, সাথে রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার যুক্ত। ব্যাটারিসহ এস৭০ মডেলের ওজন ৯৫ কেজি।

এস৮০ মডেলটিতে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ১ হাজার ২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর এবং ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি। এটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার রেঞ্জ দেয়। এই মডেলে ডিস্ক ব্রেক এবং ৩.০০-১০ অ্যান্টি-পাংচার টায়ার ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যাটারিসহ এর ওজন ১০২ কেজি এবং এটি ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত ঢাল অতিক্রম করতে পারে।

এস৯০-এ মডেলেও ৭২ ভোল্ট ১ হাজার ২০০ ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর ও ৭২ ভোল্ট ২৩ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়েছে। এই মডেলটিও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে পারে। এতে ডিস্ক ব্রেক এবং ৯০/৮০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার রয়েছে। ব্যাটারিসহ এস৯০-এ মডেলের ওজন ১২১ কেজি এবং এর ক্লাইম্বিং অ্যাবিলিটি ১২ ডিগ্রি পর্যন্ত।

এস১০০ মডেলটিতে রয়েছে ৭২ ভোল্ট ও ২ হাজার ওয়াট লিকুইড কুলিং মোটর। এতে ৭২ ভোল্ট ৩৫ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার গ্রাফিন অথবা ৭২ ভোল্ট ৩২ অ্যাম্পিয়ার আওয়ার লেড অ্যাসিড ব্যাটারির বিকল্প সুবিধা রয়েছে। এই ইভি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এবং একবার চার্জে সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১২০ কিলোমিটার রেঞ্জ দিতে সক্ষম। এস১০০ মডেলে সামনে ও পেছনে ১৮০ মিলিমিটার ডিস্ক ব্রেক এবং ৯০/৯০-১২ রেডিয়াল অ্যান্টি-পাংচার টায়ার রয়েছে। ব্যাটারির ধরন অনুযায়ী এই মডেলের ওজন ১২৮ বা ১৩৫ কেজি। এস১০০ মডেলটি ১৪ ডিগ্রি পর্যন্ত ঢাল অতিক্রম করতে পারে।

বাংলাদেশের বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে এস৯০ মডেলসহ অ্যাটলাস ইভির সব মডেলেই ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স সুবিধা রাখা হয়েছে।

শেয়ার:

মতামত (0)

লোড হচ্ছে...